মুসলিম নারী সম্পর্কিয় দেওবন্দ মাদ্রাসার একটি সাম্প্রতিক ফতোয়া এবং সেকুলার মিডিয়ার লম্ফ-ঝম্ফ

Shortlink:

বাংলাদেশ বা ভারত যেখানের কথাই বলুন না কেন, সেকুলারতো সেকুলারই। তারা মুসলিম নারীদেরও নিজেদের মানসিকতায় গড়তে চায়। তারা চায় মুসলিম মেয়েরাও ধর্মের বাঁধাকে অতিক্রম করে তাদের মত করে ঘুরে বেড়াবে, মুসলিম নারীদের সম অধিকারের নামে সকল কর্মের! বৈধতা থাকবে। তাদের এ প্রপাগেশোনের মূল বাঁধা হল আলেমগণ ও ইসলামী দলদল সমূহ। কারণ এরাই বার বার ইসলামের নাম নিয়ে মুসলিম নারীদের শালীল করতে চায়। এরাই নারীদের পণ্য হওয়ার পথে বাঁধা হয়ে দাড়ায়। এরাই বার বার মুসলিম নারীদের মনে করিয়ে দেয় তোমরা কারো মা, কারো বোন, কারো বা সহধর্মীনি।
কিন্তু মিডিয়াগুলোতো সেকুলারদের হাতে। তাই এ সকল মিডিয়ার কাছে আলেমগণ হল ‘ধর্মান্ধ!’, টিটকারির পাত্র!, প্রগতির পথের অন্তরায়! ……… আরও কত কি !!!
এবার মূল বিষয়ে আসি। টুইটার খুলতেই ANI এর একটি টুইট চোখে পড়লো এই শিরোনামে – “Darul-Uloom Deoband has issued fatwa against Muslim women cutting their hair & grooming their eyebrows”। DNA তেও সেইম রিপোর্ট। IndiaTimes রিপোর্ট লেখা শুরুই করেছে “In another weird fatwa ……” দিয়ে।
ফতোয়াটি উর্দুতে। সচেতন মুসলিম বলতে সকলেই এ কথা জানেন যে মেয়েদের জন্য চুল কাটা এবং ভুরু উপড়ে ফেলা ইসলামি শরিয়তে নিষেধ। এটাই হল ফতোয়াটির যিস্ট। কেউ যদি প্রশ্ন করে কেন নিষেধ ??? আমি বলব এটা নিয়ে পরে কখনো আলোচনা করা যাবে ইনশাআল্লাহ। তবে মুসলমানদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্ললাহু আলাইহি ওসাল্লাম এগুলো করতে নিষেধ করেছেন। ব্যাস কথা এখানেই শেষ।
কিন্তু মুসলিম নারীরা শরীয়তের এ হুকুম মানলে সেকুলারদের সকল চেষ্টাই ব্যার্থ। কারণ তারা তো আমাদের মুসলিম মা-বোনদেরকে তাদের মত নুংরা মানসিকতায় গড়ে তুলতে চায়। তাই তারা দেওবন্দের এ ফতোয়াকে যে যেদিক দিয়ে পারে টিটকারি মেরে যাচ্ছে।
যেমন Nidhi Razdan নামে এক মহিলা জার্নালিস্টের টুইট দেখালাম, যেখানে তিনি দেওবন্দের একজন আলেমকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন – “You could certainly use some eyebrow grooming Maulana ji. Now mind your own business and stop telling women what to do”।
যে কোন ধর্মের নিয়ম কানুন ধর্মীয় স্কলারগণ বর্ণনা করবেন এটা একটি সুপার লজিকাল কথা। ইসলাম ধর্মের স্কলারগনই বলবেন ‘ইসলামি ল’ তে পুরুষদেরকে কি করতে বলা হয়েছে এবং নারীদেরকে কি করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন – “যদি তুমি না জানো, তাহলে ‘আহলে যিকির’ (যারা জ্ঞানী/আলেম) তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও।” (সুরা আল-আম্বিয়াঃ আয়াত ৭)।
তাহলে এই সেকুলাররা কারা, যারা আমাদের মা-বোনদের ব্যাক্তি স্বাধীনতার নামে ধর্ম বিমুখ করতে এসেছে ??? যারা কথায় কথায় ইসলামি স্কলারদের দিকে ইঙ্গিত করে বলে “stop telling women what to do”।
এরা ঈমানের জন্য নীরব ঘাতক। যাযেবা যারা এ সেকুলারদের মতে মত মিলিয়েছে তাদের জন্য ঈমান হেফাজত করা ………।

Ahnaf Serniabat

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *