আর কতো বৈষম্যের শিকার হবে কওমীদের অবদান?

Shortlink:

প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে ভিটামাটি ত্যাগ করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী ভাই-বোনদের যাবতীয় চাহিদা মেটাতে ও তাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে এদেশের কওমী অঙ্গনের আলেমসমাজ যেভাবে রাতদিন অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো। বিশেষ করে কক্সবাজার টেকনাফ, উখিয়া, সম্প্রতি যারা গিয়েছেন তারা সেখানে কওমী আলেম-উলামাদের ব্যাপক উপস্থিতি ও ব্যস্ত পদচারণা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রসিদ্ধ-অপ্রসিদ্ধ কওমী আলেম-উলামা এবং মাদরাসা পড়ুয়ারা নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে মুহাজির ভাই-বোনদের খেদমতে হাজির হচ্ছেন।
.
এমনকি কওমী অঙ্গনের অনেক আলেম ভাই-বন্ধু সেই প্রতিবেশী আরাকানে পরিকল্পিত মুসলিম নিধন আরম্ভ হবার পর থেকেই এদেশে পালিয়ে আসা অসংখ্য মুহাজির ভাই-বোনদের খেদমতে বিরামহীনভাবে নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন। জালিম নরপশু নৌকার মাঝিদের অর্থলিপ্সার বলি হয়ে সমুদ্রের বিভিন্ন দ্বীপে আটকা পড়া অসহায় রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের উদ্ধারেও সেই কওমী আলেমরা উদ্যোগ নিয়ে তাদেরকে নিরাপদে শরণার্থী শিবির পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। আমি টেকনাফ গিয়ে সচক্ষে দেখেছি কওমী আলেম-উলামারা যে যেভাবে পারছেন অসহায় মুহাজির ভাই-বোনদের খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন। যেদিকে দৃষ্টি দিয়েছি সেদিকে আলেম-উলামাদের পদচারণা স্পষ্ট লক্ষ্য করেছি।
.
বাংলাদেশ সীমান্তের শেষপ্রান্ত থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পর্যন্ত শুধু আলেম-উলামাদের পদচারণাই বেশ লক্ষ্য করা যায়। আলেম-উলামারা সেখানে যে অহেতুক ঘুরছেন তেমনটা নয়। তারা নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ করছেন বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের হাতে-হাতে। সেখানে বিত্তশালীদের পাশাপাশি দেশের কমবেশ সবকটি কওমী ইসলামী দলগুলোও শরণার্থীদের মাঝে কোটি-কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করেই যাচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম দেশের লাখো-কোটি তাওহীদি জনতার প্রাণের অরাজনৈতিক সংগঠন ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’। পাশাপাশি রয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন/মজলিশ প্রভৃতি দলগুলোও।
.
অথচ এযাবৎ আমি দেশের কোনো প্রতিষ্ঠিত মিডিয়াতে কওমী আলেম-উলামাদের এই আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা কিঞ্চিৎমাত্র তুলে ধরতে দেখলাম না! অথচ সম্প্রতি টেকনাফ, উখিয়াতে দেশ-বিদেশের নামিদামি প্রায় সব মিডয়ার সাংবাদিক, রিপোর্টার, ফটোগ্রাফারদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে দেখা যায় সাংবাদিকদের জটলা। তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে নেতিবাচক-ইতিবাচক নানান সংবাদ কভারেজ করলেও আলেম-উলামাদের কোটি-কোটি টাকার ত্রাণসামগ্রী বিতরণ নিয়ে এযাবৎ কোনোপ্রকার রিপোর্ট করেনি! অথচ আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, অন্যান্য জনগোষ্ঠীর যৎসামান্য ত্রাণ বিতরণ নিয়েও মিডিয়াগুলো ঠিকই সংবাদ কভারেজ করেছে।
.
এতে করে পরিষ্কার হয়ে যায় কওমী আলেম-উলামাদের অবদান, ত্যাগ মিডিয়াজগতে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার। নচেৎ মিডিয়াগুলো সবকিছু কভারেজ করলেও কওমীদের অবদানগুলো তুলে ধরে না কেন? কওমী আলেমসমাজ প্রচার বিমুখ সেকথা মিথ্যে নয়। তবে এসমস্ত মানবিক কাজে আলেমসমাজের ব্যাপক উপস্থিতি প্রচার করার মধ্যে তো লাভই বেশি। ক্ষতি নেই । আর আলেমরা এসব প্রচারের ব্যাপারে তো নিষেধাজ্ঞা জারি করেননি! এতে করে অন্যান্যরাও মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, ক্ষতি আছে মানবতার ফেরিওয়ালাদের। যারা সর্বদা আলেমসমাজকে দমিয়ে রাখতে চায়। কারণ তারা একচোখা। তারা চায় না তাদের মাধ্যমে অন্তত মুসলমানরা উপকৃত হোক।
.
এদেশের মানবতার ফেরিওয়ালাদের মানবতা ইসলাম বিরোধীদের জন্য সীমাবদ্ধ। তারা নির্দিষ্ট একটা গণ্ডির ভেতরে আবদ্ধ। তাদের মানবতা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে মাজলুম মুসলমানদের জন্য তো ন-ই। তবে আলেমসমাজের মানবতা, অবদান সবার জন্য সমান। মিডিয়াওয়ালারা জানে আলেম-উলামাদের এসব অবদান দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়লে তাদের ক্ষতি আছে। তাদের মানবতা নামক ধোঁকাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা কওমী আলেম-উলামাদের এসব নিঃস্বার্থ অবদান, ত্যাগ, মানবতা দেখেও দেখে না। শুনেও শুনে না। সহযোগিতা, গোপনে করা উত্তম। তবে কিছু-কিছু ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে করাও উচিৎ। যখন তা বিদ্বেষ পোষণকারীদের মুখে চপেটাঘাতের কারণ হয়।
.
আলেমসমাজের অবদান তুলে ধরার সময় এসেছে।

মাওলানা Ali Azam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *