রোহিঙ্গা শিবিরে আসল হিরো স্থানীয় উলামা-জনতা!

Shortlink:

মাজলুম রোহিঙ্গা মুহাজিরদের নিয়ে উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজারে কাজ করছেন হাজার হাজার মানবতাবাদী জনতা। এর মধ্যে কওমীপন্থী আলেমসমাজের উপস্থিতি এবং ত্যাগ সবচেয়ে বেশি তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এবং একথা শিকার করতে বাধ্য ভিন্নমতাবলম্বীরাও। যারা এখানে নিরলসভাবে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তারা কেউ এর পরিণাম দুনিয়াতে চান না। চাইলেও পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে সেই মহান ব্যক্তিদের নিয়ে নানান মহলে জোর আলোচনা চলছে। কেউ কাউকে হিরো বানাচ্ছে। কলে পড়ে আবার কেউ জিরোতেও নামছেন।
.
মূলত আমার নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে রোহিঙ্গা শিবিরের প্রকৃত হিরো সেখানকার কওমী উলামায়ে কেরাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা। যদি বলেন কীভাবে? উত্তর হবে, সেখানকার উলামায়ে কেরাম শুরু থেকে আজ অবধি বিরতিহীন যে ত্যাগ ও অবদান রেখে যাচ্ছেন তা কিছুতেই কারো সাথে তুলনা হয় না। আমরা যারা দূরদূরান্ত থেকে মানবিক তাগিদে সেখানে ত্রাণসামগ্রী,টাকাপয়সা নিয়ে মাঝেমধ্যে যাচ্ছি অন্তত তারা স্থানীয় আলেমসমাজের এই অবদান ত্যাগকে অকপটে শিকার করতে বাধ্য। সেখানকার উলামায়ে কেরাম নানানভাবে নিঃস্বার্থ কাজ করছেন।
.
সেখানকার আলেমসমাজের সবচেয়ে বড় অবদান হলো দেশের দূরদূরান্ত থেকে মানবিক তাগিদে সেখানে ছুটে আসা উলামায়ে কেরামের ত্রাণ টিমকে দিকনির্দেশনা এবং পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম সহযোগিতা করা। পরবর্তীতে উলামায়ে কেরামের ত্রাণ টিমের থাকা-খাওয়া ইত্যাদির ব্যবস্থা করা। ফলে স্থানীয় উলামায়ে কেরাম এই কাজ থেকে ফুরসত পাচ্ছেন না ক্ষণিকের জন্যও। দ্বিতীয়ত সেখানকার কওমী মাদরাসাগুলোকে বলা যায় সাময়িক অঘোষিত আবাসিক হোটেল। কারণ প্রায়ই আলেমরা সেখানে খাওয়া-রাতজ্ঞাপন করছেন।
.
আর মুহাজিরদের খেদমতে মাদরাসাগুলো নজিরবিহীন অবদান রেখেই যাচ্ছে। কিছুদিন আগে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি সেখানকার কিছুকিছু মাদরাসায় নিয়মিত মেজবান চলছে মুহাজিরদের নিয়ে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার মুহাজিরদের সাধ্যমত খানার আয়োজন কীভাবে আঞ্জাম দিচ্ছেন তা আল্লাহ ভালো জানেন। এসব কি বিনা ফিকিরে হচ্ছে? আর শরণার্থী শিবিরের আশেপাশের স্থানীয় মানুষগুলো কী পরিমাণ কষ্ট সহ্য করে নিজেদের জীবনযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন তা কি বলে বুঝানো সম্ভব? এসব কি আমাদের ভাবিয়েছে?
.
মুহাজিরদের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা। কারণ তুলনামূলক কম জনবসতিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো আজ লাখো মানুষের পদভারে মুখরিত। ফলে স্থানীয় বাজারগুলোতে আকস্মিকভাবে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিশের মূল্য। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয়দের। পোহাতে হচ্ছে নানান ঝামেলা। মাঝেমধ্যে ঘটছে নানান অপ্রীতিকর ঘটনা। অথচ তারপরেও স্থানীয় বাসিন্দারা মুহাজিরদের একটু স্বস্তি দেবার লক্ষ্যে যতসব কষ্টক্লিষ্ট হাসিমুখে সয়ে যাচ্ছেন। তাদের সাথে মিলেমিশে দিনাতিপাত করছেন।
.
আসলে যারা বাস্তব হিরো এবং যাদের ত্যাগ অবদান কৃতিত্বের কথা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না বা কারো সাথে তুলনাই করা যাবে না সেই মহান ব্যক্তিরা রয়েই গেছেন দৃষ্টির আড়ালে। যাদের মেহনত ত্যাগ অবদানের খাতিরে রোহিঙ্গা মুহাজিররা এপারে এসে অন্তত কিছুটা হলেও নিজেদের দুঃখ গোছাতে পেরেছে সেই মহান ত্যাগী ব্যক্তিরা কোথাও আলোচনাতে নেই। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। এটা তাদের ত্যাগের বিনিময় নয়, হতে পারতো সম্মান প্রদর্শন। অথচ আমরা সেই মহান ব্যক্তিদের কৃতিত্বকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছি বেখেয়ালে!

maolana Ali Azam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *