কাদিয়ানিদের বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের জবাব – (পর্ব তিন)

Shortlink:

লেখাটি সম্পূর্ণ ভাবে পড়লে আপনি জানতে পারবেন –

১- কাদিয়ানিদের বিভ্রান্তিকর প্রশ্নটি কী এবং তার সপক্ষে তারা কুরান শরীফ থেকে কোন আয়াত পেশ করে?
২- জানতে পারবেন, তাদের উপরিউক্ত প্রশ্নটি কেন বাতিল? আরো জানতে পারবেন, তাদের উক্ত প্রশ্নটি উত্থপনের মূলে কোন অজ্ঞতা আর দুর্বলতা রয়েছে?
৩- আমরা প্রমাণ করে দেব যে, উক্ত আয়াতটি নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট কী ছিল? ইমাম ইবনে কাসীর রহঃ এর তাফসীরের উদ্ধৃতি দিয়ে তা প্রমাণ করব ইনশাআল্লাহ।
_______________
‘কাদিয়ানী জামাত’ বড্ড হটকারী এবং কুরান হাদিসের অপব্যাখ্যাকারী চরম ভ্রষ্ট একটি দল ! হাদিসের সাথে মহা ধৃষ্টতা দেখানোর পাশাপাশি তারা আয়াতের ভেতরও সুবিধামত অপব্যাখ্যা দেয়। তাদের কোনো ব্যাখ্যা ইসলামের আদিম ও পূর্ববর্তী কোনো নির্ভরযোগ্য মুফাসসির এবং মুজতাহিদের সাথে মিলেনা।
# কাদিয়ানিদের আপত্তি : কাদিয়ানিরা সূরা নিসার ৬৯ নং আয়াতকে নিজ থেকে অপব্যাখ্যা দিয়ে পৃথিবীতে আরো বহু নবী আগমন করবে বলে দাবি করে।
# আপত্তি খণ্ডন :- তাদের উপরিউক্ত দাবি এবং ব্যাখ্যাটি সম্পূর্ণ তাদের নিজেস্ব। পরন্তু তাদের এ ব্যাখ্যা পবিত্র কুরানের সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতের সুস্পষ্ট বিরোধী এমনকি অসংখ্য সহিহ হাদিসেরও বিরোধী । এখানে পবিত্র কুরানের আয়াতটি আপনাদের সামনে অর্থ সহ তুলে ধরলাম-
.
ﻭَﻣَﻦ ﻳُﻄِﻊِ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻭَﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻓَﺄُﻭْﻟَـﺌِﻚَ ﻣَﻊَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻢَ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴِّﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻘِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪَﺍﺀ ﻭَﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴﻦَ ﻭَﺣَﺴُﻦَ ﺃُﻭﻟَـﺌِﻚَ ﺭَﻓِﻴﻘًﺎ
.
অর্থাৎ আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে (কেয়ামত দিবসে) তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবীগণ, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম। (সূরা নিসা: ৬৯)
_____
# সম্পর্কিত তথ্য :
তারা এ আয়াত হতে যে ব্যাখ্যা ধরে নেয় তা সীমাহীন ভুল এবং চরম বিকৃত মর্মার্থ। যে ব্যাখ্যা একমাত্র মির্যা কাদিয়ানীর অনুসারীরা ছাড়া পৃথিবীর কোনো মুফাসসীর করেন নি। উক্ত আয়াতের শানে নুযূল (আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট) যাচাই করে দেখলেই কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যমূলক সেই চরম বিভ্রান্তির মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যাবে। তাফসীরে ইবনে কাসীর কিতাবের সরাসরি লিংক পেতে ক্লিক করুন :- www.markajomar.com/?p=3359 এখান থেকেও আয়াতটির শানে নুযূল দেখা যেতে পারে।
_______
# সূরা নিসার ৬৯ নং আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট :
সূরা নিসার ৬৯নং আয়াতের শানে নুযূল আলোচনা করতে গিয়ে আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ) বেশকিছু রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন। যেখানে সবগুলো রেওয়ায়েতই বুঝিয়েছে যে, উক্ত আয়াতের বিষয়বস্তু দুনিয়ার সাথে নয়, বরং পরকালিন জীবনের সাথেই সম্পর্কিত। অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসারিরা নাবিয়্যীন, সিদ্দিকীন, শুহাদা আর নেককারদের সংগী হওয়ার বিষয়টি কেবল পরকালিন জীবনেই ঘটবে। যেহেতু মুহাম্মদ (সা)-ই শেষ নবী। তাঁর মাধ্যমে পরবর্তী নবুওয়াতের দ্বারকে সীলগালা (চিরতরে বন্ধ) করে দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মুহাম্মদ (সা)-কে খাতামুন্নাবিয়্যীন তথা নবীগণের আগমনীধারা রুদ্ধকারী বা সমাপ্তকারী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মির্যা কাদিয়ানীর অনুসারীদের একাংশ উক্ত আয়াতের শানে নুযূনের প্রতি কোনো রকম ভ্রুক্ষেপ না করেই উদ্ভট ব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়। তারা এ থেকে হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর পরেও আরো নতুন নবী দুনিয়ায় আবির্ভাব হবার দাবিদার। মূলত তাদের এসব কাণ্ডজ্ঞানহীন দাবি— মির্যার মুখরক্ষা করা বৈ কিছুনা।
_____
তর্কের খাতিরে তাদের উক্ত বিশ্বাস মেনে নিলেও বিপত্তি বাধবে। কারণ তখন প্রশ্ন উঠবে যে, মুহাম্মদ (সা)-ওফাতের পর থেকে আজ (১৪৩৮-৩৯ হিজরী) অব্ধি প্রায় ১৪২৬ বছর গত হয়ে যায়। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বিগত দিন গুলোতে মুসাইলামাতুল কাজ্জাব, আসওয়াদে আনুছী, তুলাইহা, সাজাহ সহ অনেকেই নবুওত দাবি করেছিল। কিন্তু কাদিয়ানিরা মির্যা গোলাম আহমদকে ছাড়া আর কাউকে কি নবী বলে বিশ্বাস করে? অথচ নবীর আগমন যদি বন্ধ নাই হত, তখন শত সহস্র বছর অব্ধি নবুওত দাবিদার প্রাণীগুলোর কী হাশর হবে?
# তাহকীক ও শানে নুযূল :
উক্ত আয়াতে নবী শব্দের বহুবচন ‘নাবিয়্যীন‘ (যের এর অবস্থায় جمع مذکر سالم-এর ইরাব ى ن দ্বারা) হয়েছে। যা একাধিক নবী বুঝাবে। তাফসীরে ইবনে কাসীরের ভেতর আয়াতটির শানে নুযূল বর্ণনা করতে গিয়ে একদম প্রথমেই বিশিষ্ট সাহাবী হযরত ছাওবান (রা)-এর একটি হৃদয় নিংড়ানো ঘটনা আলোকপাত করেছেন। তিনি হযরত ‘কালবি‘ (রহ) এর সূত্রে লিখেছেন :-
ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ: } ﻭَﻣَﻦ ﻳُﻄِﻊِ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ {… ﺍﻵﻳﺔ. [ 69]. ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻜﻠﺒﻲ: ﻧﺰﻟﺖ ﻓﻲ ﺛَﻮْﺑَﺎﻥَ ﻣﻮﻟﻰ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻭﻛﺎﻥ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﺤﺐ ﻟﻪ، ﻗﻠﻴﻞ ﺍﻟﺼﺒﺮ ﻋﻨﻪ؛ ﻓﺄﺗﺎﻩ ﺫﺍﺕ ﻳﻮﻡ ﻭﻗﺪ ﺗﻐﻴﺮ ﻟﻮﻧﻪ ﻭﻧﺤﻞ ﺟﺴﻤﻪ، ﻳﻌﺮﻑ ﻭﺟﻬﻪ ﺍﻟﺤﺰﻥ، ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻪ [ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ]: ﻳﺎ ﺛَﻮﺑَﺎﻥُ، ﻣﺎ ﻏﻴَّﺮ ﻟﻮﻧﻚ؟
ﻓﻘﺎﻝ: ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﺑﻲ ﻣﻦ ﺿﺮ ﻭﻻ ﻭﺟﻊ، ﻏﻴﺮ ﺃﻧﻲ ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﺃَﺭَﻙَ ﺍﺷﺘﻘﺖ ﺇﻟﻴﻚ، ﻭﺍﺳﺘﻮﺣﺸﺖ ﻭﺣﺸﺔ ﺷﺪﻳﺪﺓ ﺣﺘﻰ ﺃﻟﻘﺎﻙ، ﺛﻢ ﺫﻛﺮﺕ ﺍﻵﺧﺮﺓ ﻭﺃﺧﺎﻑ ﺃﻥ ﻻ ﺃﺭﺍﻙ ﻫﻨﺎﻙ؛ ﻷﻧﻲ ﺃﻋﺮﻑ ﺃﻧﻚ ﺗُﺮْﻓَﻊُ ﻣﻊ ﺍﻟﻨﺒﻴّﻴﻦ، ﻭﺃﻧﻲ ﺇﻥ ﺩﺧﻠﺖ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻛﻨﺖ ﻓﻲ ﻣﻨﺰﻟﺔ ﺃﺩﻧﻰ ﻣﻦ ﻣﻨﺰﻟﺘﻚ، ﻭﺇﻥ ﻟﻢ ﺃﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﺬﺍﻙ ﺃﺣْﺮَﻯ ﺃﻥ ﻻ ﺃﺭﺍﻙ ﺃﺑﺪﺍً. ﻓﺄﻧﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻫﺬﻩ ﺍﻵﻳﺔ
.
অর্থাৎ এ আয়াত রাসূলের ক্রীতদাস হযরত ছাওবান (রা) এর প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে। তিনি রাসূল (সা)-কে খুবই ভালবাসতেন। রাসূলকে ছাড়া কোনো কিছুতেই ধৈর্য ধারণ করতে পারতেন না। একদা রাসূল (সা) তার নিকট আগমন করলেন। ইত্যবসরে (তিনি দেখতে পেলেন) ছাওবান এর শরীর বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। চেহারায় দুশ্চিন্তা বুঝাচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে রাসূল (সা) ছাওবানকে জিজ্ঞেস করলেন, কিসে তোমায় বিবর্ণ করে দিয়েছে? জবাবে হযরত ছাওবান (রাদ্বি:) বললেন : আমার এ অবস্থা কোনো অপদস্ততার জন্য নয়। তবে ব্যাপারটি হল, আমি আপনাকে যখন দেখিনা তখন দেখা পেতে অতিব আগ্রহী হয়ে পড়ি। আপনার সাক্ষাৎ পাওয়া পর্যন্ত আমি ভীষণ নির্জনতা অনুভব করতে থাকি।
অতপর পরকালিন জীবনের আলোচনা করলাম। (ছাওবান বললেন) আমি পরকালে (কিয়ামতে) আপনাকে দেখতে না পাওয়ার আশংকা করছি। কেননা আমি জানি যে, আপনি নিশ্চয় নবীদের সাথেই উত্থিত হবেন। আর আমি যদি জান্নাতি হইও, তো আপনা তুলনায় খুব নিম্নমানের জান্নাতি হয়ে (আপনার কাছ থেকে দূরে) থাকব। আর যদি জান্নাতে প্রবেশ নাই করি, তাহলে তো সেই পরকালিন জীবনে কখনোই আপনার দেখা পাবো না” -এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ: } ﻭَﻣَﻦ ﻳُﻄِﻊِ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ {… ﺍﻵﻳﺔ. [ এ আয়াত নাযিল করেছেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর : সূরা নিসা, আয়াত ৬৯)।
______
একই তাফসির রয়েছে আত-তাফসীরুল মাছীর, আল-ওয়াছীত, আল-বাগাভী, আল-কুরতুবী, আত-তাবারী ইত্যাদি কিতাবে। যথাক্রমে – (১)
فكانوا في صحبته من أنعم الله تعالى عليهم بالجنة من الأنبياء والصديقين الخ . التفسير الميسر
অর্থাৎ তাঁরা সেসব ব্যক্তিদের সঙ্গী হবেন যাঁদেরকে আল্লাহতালা জান্নাতে নেয়ামত দেবেন। আর তাঁরা হলেন নবীগণ, ছিদ্দীকীন, ইত্যাদি। (দেখুন : তাফসীরুল মুইয়াসসার)। (২)
يكونون يوم القيامة في صحبة الأنبياء الذين ارسلهم الله مبشرين و منذرين الخ. الوسيط لطنطاوى
অর্থাৎ তারা কিয়ামতের দিন নবীদের সঙ্গী হবেন যাঁদেরকে আল্লাহতালা সুসংবাদ দাতা আর ভয়প্রদর্শনকারী হিসেবে প্রেরণ করিয়াছেন। (দেখুন : তাফসীরে আল-ওয়াসীত লি-ত্বনতাভী)। (৩)
أولئك رفيقا يعني رفقاء الجنة . البغوي
অর্থাৎ : তারা সবাই জান্নাতি সঙ্গী হবেন। (দেখুন : তাফসীরে বাগাভী, প্রাচীন যুগের শ্রেষ্ঠ তাফসীর গ্রন্থ)। (৪)
أى هم معهم في دار واحده و نعيم واحد يستمتعون برؤيتهم والحضور معهم لا أنهم يساوونهم في الدرجة . القرطبي
অর্থাৎ তারা সবাই একই ঘরে ও একই দারুন নাঈমে (জান্নাতের একটি নাম) তাঁদের সঙ্গী হবেন। তারা নিজেদের চোখ দিয়ে নেয়ামত উপভোগ করবে এবং তাঁদের সাথেই উপস্থিত থাকবে। তবে মর্যাদার ক্ষেত্রে তাঁরা এঁদের সমকক্ষ হবেনা। (দেখুন – তাফসীরে কুরতুবী)।
(৫) তাফসীরে তাবারী’র উদ্ধৃতি দিয়েই ইতি টানব, ইনশাল্লাহ। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী রহঃ লিখেছেন :
فهو مع الزين أنعم الله عليهم بهدايته والتوفيق لطاعته فى الدنيا من أنبيائه و فى الآخرة إذا دخل الجنة.الخ
অর্থ : যাকে আল্লাহতালা স্বীয় হিদায়াত দ্বারা নেয়ামত দান করেছেন এবং দুনিয়াতে নবীদের অনুগত হওয়ার জন্য (যাকে) তাওফিক দিয়েছেন, সে পরকালে তাঁদের সঙ্গী হবে যখন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (প্রাচীন তাফসির গ্রন্থ ‘তাফসীরে তাবারী, নিসা আয়াত ৬৯ দ্রষ্টব্য ) যাইহোক, বুঝতে পারলাম যে, উক্ত আয়াতটির বিষয়বস্তু হিসেবে যা ফুটে উঠে তার সম্পর্ক দুনিয়ার সাথে নয়, বরং পরকালের সাথে। অর্থাৎ যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে রোজ কেয়ামতে তাঁদের সঙ্গী হবে। আল্লাহর নেয়ামতপ্রাপ্তগণ হলেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। সুতরাং কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাটি অসার ও বানোয়াট।
_______
# সহীহ হাদিসের আলোকে প্রমাণ :-
পবিত্র কুরানের এ মর্মবাণী একটি সহিহ হাদিসের আলোকেও আমরা বুঝতে পারি। যেমন রাসূলেপাক (সা) তিনি নেককার ব্যবসায়ীদের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলে গেছেন, তারাও নবী, ছিদ্দীক, শহীদ এবং নেককারদের সঙ্গী হবে।
حدثنا هناد حدثنا قبيصة عن سفيان عن أبي حمزة عن الحسن عن أبي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال التاجر الصدوق الأمين مع النبيين والصديقين والشهداء قال أبو عيسى هذا حديث حسن
অর্থাৎ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) বর্ণনা করেছেন, নবীকরিম (সা) বলেছেন, আমানতদার সত্যবাদী ব্যবসায়ী(দের হাশর কেয়ামতের দিন) নবী, ছিদ্দীক, শহীদদের সাথে হবে।’ ইমাম আবু ঈসা তিরমিযি রহঃ বলেন, এ হাদিসের মান ‘হাসান’। (তথ্যসূত্র : সুনানে তিরমিযি, আল-মুসতাদরিক আলা আস-সহীহাঈন, সুনানে কোবরা, সুনানে দারে কুতনী, সুনানে দারেমী; ব্যবসা অধ্যায় দ্রষ্টব্য)
নেককার ব্যবসায়ীদের ফজিলত বর্ণনার ক্ষেত্রে আরো যেসব হাদিস আছে তার আরেকটিতে একদম সুস্পষ্টভাবে কেয়ামত দিবসে নবী, ছিদ্দীক, শহীদ এবং নেককারদের সাথে তাদের হাশর হবে বলে উল্লেখ আছে।
যেমন – التاجر يوم القيامة فجارا إلا من اتقى و برا و صدق অর্থাৎ কেয়ামতের দিন কেবলমাত্র খোদাভিরু, নেককার এবং সত্যবাদী ব্যবসী ছাড়া অন্য (ব্যবসায়ী)দের হাশর হবে মন্দ লোকদের সাথে।’ দুটো হাদিসই কাছাকাছি। একটি অপরটির সমর্থক। কাজেই উক্ত আয়াত গুলোও একই মর্মার্থের দিকেই ইংগিত করার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ আর থাকল না। কাজেই উক্ত আয়াতের অপব্যাখ্যা করে যারা দুনিয়াতে আরো নতুন নবী-রাসূল আবির্ভাব হবার আক্বিদা রাখবে কিংবা বলবে যে ‘কুরঅানে আছে, তাঁর অনুসরনে ও অনুকরনে (কথিত) উম্মতি নবী আসতে পারে’— (নাউযুবিল্লাহ), তারা নিঃসন্দেহ আয়াতের অর্থ বিকৃতিকারী এবং কাফির।
উল্লেখ্য, তিরমিযি শরিফের ২য় খন্ডের ৪৫ নং পৃষ্ঠায় নবীকরিম (সা) এর একটি হাদিসে সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে سيكون في امتى كذابون ثلاثون كلهم يزعم أنه نبى وانا خاتم النبیین ﻻ ﻧﺒﻲ بعدى. এ হাদিসে ‘মিন উম্মাতি‘ (আমার উম্মতের মধ্যে) শব্দ এসেছে। এতে এও প্রমাণিত হয়ে গেল যে, তথাকথিত উম্মতি নবী দাবিদাররা মিথ্যুক। একই হাদিসের শেষাংশে আরো সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে ‘আমি শেষনবী আমার পরে কোনো নবী নেই।‘

# শেষকথা :–
উক্ত আয়াতগুলোর অবতরণের প্রেক্ষাপট যাচাই করলে সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, সেগুলোর প্রকৃত তাৎপর্য কী? সূরা নিসার ৬৯ নং আয়াতে যেসকল নেয়ামতপ্রাপ্তদের সঙ্গী হবার সুসংবাদ দান করা হয়েছে সেই সুসংবাদটি কার্যত রোজ কেয়ামতের সাথেই সম্পর্কিত, দুনিয়ার জীবনের সাথে নয়। এ সূক্ষ্ম জ্ঞানের অভাবেই কিছু কিছু মানুষ ভন্ডনবী কাদিয়ানীর অপব্যাখ্যা দ্বারা পথভ্রষ্ট বিভ্রান্ত হয়েছিল। মহান আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *