হযরত মু‘আয বিন জাবাল (রা.) এর হাদীসের ব্যপারে আহলে হাদিস দাবীদারদের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব

Shortlink:

ইজতিহাদ সংক্রান্ত হযরত মু‘আয বিন জাবাল (রা.) এর হাদীসটির গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু?

❀ প্রশ্ন : ইজতিহাদ সংক্রান্ত হযরত মু‘আয বিন জাবাল (রা.) এর হাদীসটির গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু?

ইতি : আব্দুর রহমান মাসুম

✏ উত্তর : হাদীসটি সহীহ । কিন্তু কতিপয় লোক হাদীসটির উপর অনেক ভাবে আপত্তি উপস্থাপন করে থাকেন । তাই নিন্মে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো ।

আসুন, প্রথমে আমরা অর্থ ও সনদসহ হাদীসটি দেখি

سنن أبي داود ت الأرنؤوط (5/ 443)

3592 – حدَّثنا حفصُ بنُ عمر، عن شُعبةَ، عن أبي عونٍ، عن الحارث بن عَمرو بن أخي المغيرة بن شُعبة عن أناسٍ من أهل حمصَ من أصحابِ معاذ بن جبل: أن رسولَ الله -صلَّى الله عليه وسلم- لما أراد أن يَبعَثَ معاذاً إلى اليمن، قال: “كيف تَقضِي إذا عَرَضَ لكَ قَضاء؟ ” قال: أقضي بكتابِ الله، قال: “فإن لم تَجِدْ في كتاب الله؟ ” قال: فبسُنةِ رسولِ الله – صلَّى الله عليه وسلم -، قال: “فإن لم تجد في سُنة رسولِ الله – صلَّى الله عليه وسلم – ولا في كتابِ الله؟ قال: أجْتَهِدُ رأيِ ولا آلُو، فضربَ رسولُ الله – صلَّى الله عليه وسلم – صَدْرَهُ وقال: الحمدُ لله الذي وَفَّق رسولَ رسولِ الله لما يَرضَى رسولُ الله”

অর্থ : ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন হাফস ইবনে ওমর আর তিনি শুনেছেন শুবা (রহ.)এর কাছ থেকে আর তিনি শুনেছেন আবি আওন (রহ.)এর কাছ থেকে আর তিনি শুনেছেন হারেস ইবনে আমর থেকে যিনি মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) এর ভাই তিনি বলেন হিমস’ এর অধিবাসী হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রা.) এর সঙ্গীগণ বর্ণনা করেন, হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রা.) কে যখন রাসূল (সা.)ইয়ামেনের দিকে গর্ভনর স্বরূপ পাঠানোর ইচ্ছে করলেন, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি ভাবে ফায়সালা করবে? তিনি বললেন, আমি ফায়সালা করবো আল্লাহর কিতাব কোরআন দ্বারা। রাসূল (সা.) বললেন, যদি কিতাবুল্লাহর মাঝে না পাও? তিনি উত্তরে বললেন, রাসূল (সা.) আর সুন্নাত দ্বারা ফায়সালা করবো। অতঃপর রাসূল (সা.) বললেন, যদি তুমি সুন্নাহ এর মাঝেও না পাও? তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি ইজতিহাদ করতে ভুল করবো না অর্থাৎ ইজতিহাদ করবো। অতঃপর রাসূল (সা.) তার বুকে থাপ্পর মেরে বললেন, যাবতীয় প্রশংসা ঐ আল্লাহর যিনি রাসূল (সা.) এর রাসূল তথা দূত/প্রতিনিধিকে ঐ বিষয়ের যোগ্যতা দান করেছে যে বিষয় তার রাসূল সন্তুষ্ট। আবূ দাঊদ-5/443, হাদীস নং-3592 ।

✿ জরুরী সংকেত : এই হাদীসটি আপনাকে বুঝতে হলে আপনাকে প্রথমত বুঝতে হবে হাদীসের অর্থর মাঝে দুটি কথা-

(1) হযরত মু‘আয (রা.) থেকে এই হাদীসটি কোন একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন নি বরং ‘‘হিমস’ এর অধিবাসী হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রা.)এর একাধীক সঙ্গীগণ বর্ণনা করেছেন’’ (এক কথায় বড় একটি জামাত বর্ণনা করেছন)।

(2) এই হাদীসের একজন বর্ণনাকারী হলেন- হারেস ইবনে আমর আবূ দাঊদ এর ‍উল্লেখিত বর্ণনায় তার পরিচয় উল্লেখ রয়েছে এই বলে যে-‘‘ তিনি মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) এর ভাই’’।

এই হাদীস ও তার উপর উত্থাপিত আাপত্তি ও জবাব  যে সব কিতাবে রয়েছে

আবূ দাউদ-5/443, হাদীস-3592, তিরমিযী-3/09, হাদীস-1327, মুসনাদে আহমদ-36/382, হাদীস-22061, আল মুজামুল কাবীর-20/170, হাদীস-362, আস সুনানুস ছোগরা লিল বায়হাকী-4/130, হাদীস-3250, সুনানুদ দারামী-1/267, হাদীস-170, আস সুনানুল কোবরা লিল বায়হাকী-10/195, হাদীস-20339, শারহুস সুন্না লিল বাগবী-10/116, ইবনে আবী শায়বা-4/543, হাদীস-22989, জামেউল উসূল-10/177, জামেউল মাসানিদ ওয়াস সুনান-7/558, হাদীস-9763, মিশকাতুল মাসাবীহ-2/1103, হাদীস-3737, জামউল ফাওয়ায়েদ-2/253, হাদীস-4923, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার-1/173, হাদীস-291, শারহু মুশকেলিল আসার-9/212, হাদীস-3583, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাকীহ-1/470, তাবকাতে ইবন সাদ-2/347, জামিউ বয়ানিল ইলম-2/844, হাদীস-1593, উকাইলি ফিজ জুয়াফা-1/234, দারা কুতনী ফিল ইলাল-6/88, আল আবাতিল ওয়াল মানাকির লিজ জুরকানী-1/243, তাহযীবুল কামাল-04/53, আল ইলালুল মুতানাহীয়া লি ইবনুল জাওযী-2/758, তোহফাতুত তালেব লি ইবনে কাসির-125, উসূলূল আহকাম লি ইবনে হাযম-02/204-438, আল ফাতহুর রাব্বানি লিশ শাওকানী-9/4485, ইরশাদুল ফকীহ-2/396 লি ইবনে কাসীর, আল বাদরুল মুনীর লি ইবনে মুলকিন-9/534, আত তালখিসুল হাবীর লি ইবনে হাজার-4/446, ফাতহুল গাফফার-4/2057, মিযানুল ইতেদাল-2/175, আত তাহযীব-1/474, তোহফাতুল আহওয়াযী-3/449, আওনুল মাবুদ লিল আযমী-9/369, সময় সংক্ষিপ্ততার কারণে অন্য অন্য কিতাবের উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয় নি।

উল্লেখিত হাদীসটিকে সহীহ বলে যে সব মুহাদ্দীসগণ মন্তব্য করেছেন

(বিশেষ উপহার এর মাঝে রয়েছে সালাফীদেরও বড় কিছু ইমাম)

01। আল্লামা খতিবে বাগদাদী (রহ.) উক্ত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাকীহ-1/93-112-113।

02। ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসীর (রহ.)ও সহীহ বলেছেন। তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইরশাদুল ফকীহ-2/396।

03। ইবনুল আরাবী (রহ.)ও সহীহ বলেছেন। আরেজাতুল আহওয়াজী শারহুত তিরমিযী-6/68।

04। আল্লামা জুওয়াইনি (ইমামুল হারামাইন) (রহ.)ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আল বুরহানু ফি উসূলিল ফিকহ-2/17।

05। আল্লামা ইবনু আব্দুল বার (রহ.)ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। জামিউ বয়ানিল ইলম-2/844।

06। শায়খ জায়েদ আল কাউসারী (রহ.)ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। মাকালাতে কাউসারী-60-61।

07। আল্লমা বাকালানী (রহ.)ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আত তালখিসুল হাবীর লি ইবনে হাজার-4/446 ।

08। আল্লামা আবূল আব্বাস ইবনুল কাস (রহ.)ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আত তালখীস-4/446 ।

09। ইমাম আবুত তীব (রহ.)ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আত তালখিসুল হাবীর লি ইবনে হাজার-4/446 ।

10। ইমাম তাবারী (রহ.)ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আত তালখিসুল হাবীর লি ইবনে হাজার-4/446 ।

11। কাজী ইবনুল আরাবী (রহ.)ও সহীহ বলেছেন। আহকামুল কোরআন লি ইবনুল আরাবী-1/175।

12। শায়খ ফখরুদ্দীন আল বাজদাউই (রহ.)ও হাদীসটিকে সহীহ হলেছেন। কাশফুল আসরার শারহু উসূলিল বজদবী-3/278।

13। আল্লামা শাওকানী (রহ.)ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আল মুফরাদ, আল ফাতহুর রাব্বানি-9/4485।

14। আল্লামা ইবনে কাইয়ূম আল জাওযী (রহ.)ও সহীহ বলেছেন। ইলামুল মুয়াক্কীন-1/155।

15। ইবনে তাইমিয়া (রহ.)ও সহীহ বলেছেন। মাজমুআতু ফাতাওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া-16/364।

এছাড়াও আরো অগণিত ইমাম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, এখানে তার কিছু নমুনা মাত্র পেশ করলাম।

এই হাদীসটি নিয়ে যুগে যুগে মুহাদ্দীসগণের অবদান

❐ আল্লামা জুয়াইনি যিনি ইমামুল হারামাইন নামে প্রসিদ্ধ তিনি তার লিখিত গ্রন্থ এর মাঝে উক্ত হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন-

البرهان في أصول الفقه (2/ 17)
وهو مدون في الصحاح وهو متفق على صحته

উক্ত হাদীসটি সিহাহ সিত্তা তথা হাদীসের বিশুদ্ধ ছয়টি কিতাবের কতিপয় কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, এবং তা সঠিক বলে উম্মতের মাঝে ঐক্যবদ্ধও হয়েছে। আল বুরহান-2/17।

❐  আল্লামা যায়েদ আল কাউসারী (রহ.) মাকালাতে কাউসারী এর মাঝে বলেন-

شعبة بن الحجاج – المعروف بالتشدد فى الرواية الخ 

উক্ত হাদীসটি সহীহ হওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো, এই হাদীসের বর্ণনাকারীদের মাঝে একজন হলো ‘শুবা ইবনুল হাজ্জাজ (রহ.) যার বিষয়ে এই কথা প্রসিদ্ধ যে, তিনি সর্বদা হাদীস এর বর্ণনার বিষেয় অধিক কঠোরতা ব্যক্ত করতেন। অতএব তারমত ব্যক্তি এই হাদীস এর বর্ণনাকারীদের একজন তাহলে এই হাদীস কি করে যয়ীফ হতে পারে? এছাড়াও তার নির্ভরতার উপর সমস্ত জারহ ও তাদীলের ইমামগণ একমত পোষন করেছেন। মাকালাতে কাউসারী-62-63।

❐ আল্লাম ইবনুল আরাবী (রহ.) উক্ত হাদীসটি সম্পর্কে বলেন-

اختلف الناس في هذا الحديث فمنهم من قال إنه لا يصح ، و منهم من قال هو صحيح ، والدين القول بصحته ؛ فإنه حديثٌ مشهور يرويه شعبة بن الحجاج ،  

উক্ত হাদীসটি নিয়ে মানুষের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। কেউ বলেন, হাদীসটি সহীহ আবার কেউ বলেন, হাদীসটি সহীহ নয় কিন্তু সঠিক ও সুদৃঢ় কথা হলো হাদীসটি সহীহ কেননা এটি এমন একটি হাদীস যা শুবা ইবনুল হাজ্জাজ (রহ.) এর মত বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আরেজাতুল আহওয়াজী শারহুত তিরমিযী-6/68।

❐ আল্লামা খতিবে বাগদাদী (রহ.) উক্ত হাদীসটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন-

قال الخطيب في : إنَّ أهل العلم قد تقبَّلوه واحتجُّوا به ، فوقفنا بذلك على صحته عندهم كما وقفنا على صحة قول رسول الله ^ :
وإنْ كانت هذه الأحاديث لا تثبت من جهة الإسناد ، لكن لما تلقَّتها الكافة عن الكافة غَنُوا بصحتها عندهم عن طلب الإسناد لها فكذلك حديث معاذ لما احتَّجوا به جميعاً غَنُوا عن طلب الإسناد له

নিশ্চয় আহলে ইলমগণ এই হাদীসটিকে গ্রহণ করেছেন এবং এটি দিয়ে প্রমাণও পেশ করেছেন। অতএব আমরা এই হাদীটিকে সহীহ রূপে আবশ্যক ভাবে গ্রহণ করতে পারি। তাছাড়াও যখন‍ আহলে ইলমগণ কোন হাদীসকে গ্রহন করে থাকে তখন তা সহীহ তথা প্রমাণযোগ্য হয়। তার সনদ বা সূত্রের দিকে লক্ষ্য করা হয় না। যেমন নিন্মে উল্লেখিত হাদীসগুলো সনদ এর দিক থেকে দূর্বল কিন্তু আহলে ইলমগণও এই হাদীসগুলো দিয়ে প্রমাণ পেশ করে থাকে-

(1) «لا وصية لوارث».
(2) وقوله في البحر: « هو الطهور ماؤه، الحل ميتته»
(3) وقوله: «إذا اختلف المتبايعان في الثمن والسلعةُ قائمة، تحالفا وترادَّا البيع»
(4) وقوله: «الدِّيَة على العاقلة»

তদ্রুপ হযরত মুয়ায বিন জাবাল (রা.) হাদীসটিকেও প্রমাণ স্বরূপ গ্রহন করা হবে সনদ এর দিকে লক্ষ না করে। আল ফকীহ ওয়াল মুতাফাককীহ-1/189।

❐ আল্লামা ইবনুল কাইয়ূ্ম (রহ.) উক্ত হাদীসটিকে সহীহ বলে মন্তব্য করে বলেন-

إعلام الموقعين عن رب العالمين (1/ 155)
حَدِيثٌ وَإِنْ كَانَ عَنْ غَيْرِ مُسَمَّيْنَ فَهُمْ أَصْحَابُ مُعَاذٍ فَلَا يَضُرُّهُ ذَلِكَ؛ لِأَنَّهُ يَدُلُّ عَلَى شُهْرَةِ الْحَدِيثِ وَأَنَّ الَّذِي حَدَّثَ بِهِ الْحَارِثُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ لَا وَاحِدٍ مِنْهُمْ، وَهَذَا أَبْلَغُ فِي الشُّهْرَةِ مِنْ أَنْ يَكُونَ عَنْ وَاحِدٍ مِنْهُمْ لَوْ سُمِّيَ، كَيْفَ وَشُهْرَةُ أَصْحَابِ مُعَاذٍ بِالْعِلْمِ وَالدَّيْنِ وَالْفَضْلِ وَالصِّدْقِ بِالْمَحَلِّ الَّذِي لَا يَخْفَى؟ وَلَا يُعْرَفُ فِي أَصْحَابِهِ مُتَّهَمٌ وَلَا كَذَّابٌ وَلَا مَجْرُوحٌ، بَلْ أَصْحَابُهُ مِنْ أَفَاضِلِ الْمُسْلِمِينَ وَخِيَارِهِمْ، لَا يَشُكُّ أَهْلُ الْعِلْمِ بِالنَّقْلِ فِي ذَلِكَ، كَيْفَ وَشُعْبَةُ حَامِلُ لِوَاءِ هَذَا الْحَدِيثِ؟ وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ: إذَا رَأَيْتَ شُعْبَةَ فِي إسْنَادِ حَدِيثٍ فَاشْدُدْ يَدَيْكَ بِهِ،

উক্ত হাদীসটি মাঝে হযরত মুয়ায (রা.) এর সঙ্গিদের নাম উল্লেখ না করাতে কোন সমস্যা নেই। কেননা এর দ্বারা হাদীসটি অধিক প্রসিদ্ধ, সে কথাটি উপর বুঝানো হয়েছে। হ্যা, ঐ সময় নাম উল্লেখ করা হতো যখন একজন ব্যক্তি বর্ণনাকারী হত। আর মুয়ায (রা.) এর সঙ্গীগণ ইলম, দ্বীন, মর্যাদা ও সততা আকাশচুম্বী, তা কারো নিকটে অজানা নয়। আর তার সঙ্গীদের মাঝে কোন একজনকেও মিথ্যাবাদী বা মুহাদ্দীসগণ নিন্দনীয় মতামত পেশ করেছেন এমন কোন মন্তব্য নেই। বরং তারা ছিল সর্ব শ্রেষ্ট ও সুমর্যাদাবান মুসলিম।

আর এই হাদীসটি আহলে ইলমগণ নিজ কিতাবে সংকলন করতেও কুন্ঠিত হন নি, আর কেনইবা হবেন, এই হাদীসের মুল ঝাণ্ডা বহন করে আছেন ‘শুবা’ যার বিষয়ে হাদীসের ইমমাগণ বলেন ‘‘যখন তুমি কোন হাদীস এর বর্ণনাকারীদের মঝে শুবাকে দেখবে তখন তুমি ঐ হাদীস জোরালো ভাবে গ্রহণ করতে পারো।’’ ইলামুল মুয়াক্কীন-1/155।

❐ ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) উক্ত হাদীসটিকে উল্লেখ করার পর কোন মন্তব্য করেন নি। আর তিনি কোন হাদীস উল্লেখ করার পর মন্তব্য না করার ব্যাখ্যা কি হবে? এ সম্পর্কে তিনি নিজেই তার লিখিত গ্রন্থ ‘রিসালাতু আবি দাউদ ইলা আহলে মুক্কা’’ এর মাঝে লিখেছেন-

رسالة أبي داود إلى أهل مكة (ص: 27)
الْمَسْكُوت عَنهُ صَالح
مَا لم أذكر فِيهِ شَيْئا فَهُوَ صَالح

প্রত্যেক ঐ বর্ণনাকারী যার ব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করি না, তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে আমার নিকট সৎ ও বিশ্বস্ত। (তাহলে উক্ত হাদীসটি সহীহ রূপে গ্রহণ করার মাঝে সমস্যা কোথায়?)‘রিসালাতু আবি দাউদ ইলা আহলে মুক্কা-27

❐ হাফেজ জাহাবী (রহ.) বলেন-

ميزان الاعتدال (3/ 426)
والجمهور على أن من كان من المشايخ قد روى عنه جماعة ولم يأت بما ينكر عليه أن حديثه صحيح

অধিকাংশ মুহাদ্দীসগণের মত হলো কোন হাদীস যদি একটি জামাত থেকে বর্ণিত হয় এবং তার মাঝে এমন কোন বর্ণনাকারী না থাকে যাকে মুহাদ্দীসগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাহলে ঐ হাদীসটিও সহীহ বলে গ্রহণযোগ্য হয়। আর এধরনের দৃষ্টান্ত বুখারী ও মুসলিম এর মাঝেও রয়েছে। (অতএব উক্ত নিয়ম অনুসারে আমরা মুয়ায (রা.) এর হাদীসটিকেও গ্রহন করতে পারি।) মিযানুল ইতেদাল-3/426 ।

✪ এছাড়াও এ হাদীস সম্পর্কে রয়েছেন মুহাদ্দীসগণের আরো অসংখ্য প্রশংসনীয় বাণী। যা অন্য কোন হাদীস সম্পর্কে সচারাচার পাওয়া যায় না। সময় সংক্ষিপ্ত তাই উল্লেখ করলাম না। আর বুঝবান মানুষের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।

উক্ত হাদীসটির উপর তিনটি আপত্তি ও তার জবাব

আহলে হাদীসদের মহাগুরু ইবনে হাজম জাহেরী ও শায়খ আলবানীসহ কতক ইমাম (কিয়াস ও ইজতেহাদ এর প্রতি বিরোধ ভাব রেখে) উক্ত হাদীসটিকে যয়ীফ বানানোর কঠিন চেষ্ট করেছেন এবং তুলেছেন উক্ত হাদীসের প্রতি তিন ধরনের আপত্তি। আমি নিন্মে তা উল্লেখ করবো এবং মুহাদ্দীসিনে কেরামের নন্দীত উত্তরগুলোও উল্লেখ করে হবে ইনশাআল্লাহ।

✏ আপত্তি নং 01 : উক্ত হাদীসটি সহীহ হতে পারে না। কেননা হযরত মুয়ায বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত ব্যক্তিগণ (মাজহুল) অজ্ঞাত। দেখুন হাদীস এর মাঝে এসেছে(- عن أناسٍ من أهل حمصَ من أصحابِ معاذ بن جبل অর্থাৎ হিমস’ এর অধিবাসী হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.)এর সঙ্গীগণ বর্ণনা করেন।)

উক্ত হাদীস এর মাঝে কোন সঙ্গী বর্ণনা করেছেন তা অজ্ঞাত তাই উক্ত হাদীসটি সহীহ নয়।

✔ আমাদের জবাব : আল্লামা আবূ বকর ইবনুল আরাবী (রহ.) ও ইবনে কাইযুম (রহ.) সহ একাধিক মুহাদ্দীসগণ এই উক্তিটির জবাব দিতে গিয়ে বলেন, উক্ত হাদীসে মুয়ায ইবন জাবাল (রা.) এর সঙ্গীদের থেকে বর্ণিত বলা হয়েছে। আর সমস্ত মুহাদ্দীসগণ এ কথার উপর ঐক্যবদ্ধ যে, হযরত মুয়ায বিন জাবাল (রা.) এর সমস্ত সঙ্গীগণ ইলম জুহুদ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য। এবং সমস্ত সঙ্গীগণ মুহাদ্দীসদের নিকট পরিচিত। (আর কেনইবা গ্রহণযোগ্য হবেন না? মুয়ায (রা.) যদি সাহাবী হন তাহলে তার সঙ্গীগণওতো সাহাবী আর তাদেরকে নিয়ে কথা বলার অধিকার কারো নেই।)

এখন আমরা জানতে পারলাম যে মুয়ায (রা.) এর সঙ্গীগণ গ্রহণযোগ্য। অতএব আমাদের জানা প্রয়োজন এখানে তারা অজ্ঞাত থাকার কারণে হাদীসটির মাঝে কোন সমস্যা হবে কি না?

উত্তরটি জানার পূর্বে একটি নিয়ম জেনে নিন :

আর তা হলো- ويجوز أن يكون في الخبر إسقاط الأسماء عن جماعة، ولا يدخله ذلك في حيز الجهالة، وإنما يدخل في المجهولات إذا كان واحداً، যখন কোন হাদীস একটি জামাআত থেকে বর্ণিত হয়, তাহলে ঐ স্থানে নাম উল্লেখ না করা বৈধ। এবং ঐ হাদীসের বর্ণনাকারী অজ্ঞাত বলে আপত্তিও করা যাবে না। হ্যা ঐ সময় অজ্ঞাত বলে আপত্তি করা যাবে যখন এক জামাত না হয়ে, শুধু মাত্র একজন হবে।

অতএব মুয়ায (রা.) এর হাদীসটি এক জামাআত থেকে বর্ণিত হয়েছে। একজন থেকে নয়, তাহলে নাম উল্লেখ না করায় হাদীসটির বর্ণনাকারী অজ্ঞাত হবে কেন? এবং হাদীসটি যয়ীফও হবে কেন? আর এধরনের বর্ণনা বুখারী ও মুসলিম এর মাঝেও উল্লেখ রয়েছে। যেমন দেখুন-

❖ صحيح البخاري (4/ 207)

3642 – حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا شَبِيبُ بْنُ غَرْقَدَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ الحَيَّ يُحَدِّثُونَ، عَنْ عُرْوَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَعْطَاهُ دِينَارًا يَشْتَرِي لَهُ بِهِ شَاةً، فَاشْتَرَى لَهُ بِهِ شَاتَيْنِ، فَبَاعَ إِحْدَاهُمَا بِدِينَارٍ، وَجَاءَهُ بِدِينَارٍ وَشَاةٍ، فَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ فِي بَيْعِهِ، وَكَانَ لَوِ اشْتَرَى التُّرَابَ لَرَبِحَ فِيهِ»، قَالَ سُفْيَانُ: كَانَ الحَسَنُ بْنُ عُمَارَةَ جَاءَنَا بِهَذَا الحَدِيثِ عَنْهُ، قَالَ: سَمِعَهُ شَبِيبٌ مِنْ عُرْوَةَ فَأَتَيْتُهُ، فَقَالَ شَبِيبٌ إِنِّي لَمْ أَسْمَعْهُ مِنْ عُرْوَةَ، قَالَ سَمِعْتُ الحَيَّ يُخْبِرُونَهُ عَنْهُ،

অথ : ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আমি হাদীসটি শুনেছি আলি ইবনু আব্দুল্লাহ থেকে আর তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি শাবীব ইবনে গারকাদ থেকে, তিনি বলেন আমি শুনেছি একটি গ্রাম থেকে তারা হযরত উরওয়া থেকে বর্ণনা করেন। তিনি রাসূল (সা.)থেকে……..। সহীহ আল বুখারী-4/207, হাদীস-3642।

ব্যাখা : সন্মানিত পাঠক দেখুন উক্ত হাদীসটির মাঝে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, سَمِعْتُ الحَيَّ يُحَدِّثُون আমি একটি গ্রাম থেকে শুনেছি। যার দ্বারা একথা স্পষ্ট যে, যখন কোন এক জামাআত থেকে বর্ণনা হবে তখন কারো নাম উল্লেখ না করলে হাদীস যয়ীফ বা অজ্ঞাত বলে সাবস্ত্য হয় না। আর যদি হয়ে থাকে তাহলে সহীহ বুখারীর এই বর্ণনা সম্পর্কে আপত্তিকর ব্যক্তিবর্গ কি জববা দিবেন? নিশ্চয় সুস্থ জ্ঞানের সকলেই বলবেন এ সমস্যা থাকার কারণেও বুখারীর বর্ণনা সহীহ। অতএব হযরত মুয়ায (রা.) এর হাদীসটি যয়ীফ হবে কোন দুঃখে? নিশ্চয় মুয়ায (রা.) এর হাদীসটিও সহীহ।

এখন দেখুন সহীহ মুসলিম এর একটি হাদীস-

❖ صحيح مسلم (2/ 653)

(945) وحَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ: حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ: حَدَّثَنِي رِجَالٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِثْلِ حَدِيثِ مَعْمَرٍ، وَقَالَ: «وَمَنِ اتَّبَعَهَا حَتَّى تُدْفَنَ»

অর্থ : ইমাম মুসলিম বলেন আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল মালেক ইবনে শুয়াইব ইবনে লাইস, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তার দাদা বলেন আমাকে হাদীসটি শুনিয়েছেন ‍উকাইল ইবনে খালেদ ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন আমাকে হাদীসটি শুনায়েছেন একাধিক লোক হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে…….। মুসলিম-2/653, হাদীস-945।

ব্যাখ্যা : দেখুন সহীহ মুসলিম এর উক্ত হাদীসটির মাঝেও- حَدَّثَنِي رِجَالٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، অর্থাৎ আমাকে হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে একাধিক লোক। এখানে এক জামাআত মানুষ হাদীস বর্ণনা করার কারণে কোন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয় নি। অতএব মুসলিম এর এই হাদীসটি যয়ীফ বা অজ্ঞাত বলে বিবেচিত হবে কি? নিশ্চয় না। তাহলে হযরত মুয়ায (রা.)এর হাদীসটি কেন এক জামাআত  থেকে বর্ণনার কারণে কোন রাবির নাম উল্লেখ না করাতে যয়ীফ বা অজ্ঞাত বলে বিবেচিত হবে? এখন বলুন আপত্তি কৃত ব্যক্তিবর্গ এই হাদীসগুলোর কি জবাব দিবে? বাধ্য হয়ে বলতে হয়, কবি এখানেই নিরব!

এছাড়াও হাদীস এর জগতে এর আরো অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। সময় সংক্ষেপ তাই বিস্তারিত আলোচনা করি নি। আর বুঝবান মানুষের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক দ্বীন বুঝার তাওফীক দান করুন।

✏ আপত্তি নং 02 : এই হাদীসের একজন বর্ণনাকারী হলেন- হারেস ইবনে আমর, কতক ইমাম বলেছেন, তিনি (মাজহুল) তথা সম্পূর্ণ অপরিচিত বা অজ্ঞাত যা হাদীসটি সহীহ হওয়ার মাঝে বাধা সৃষ্টি করে থাকে, এজন্যও হাদীসটি সহীহ না। যয়ীফ!

✔ আমাদের জবাব : তিনি আসলে (মাজহুল) তথা সম্পূর্ণ অপরিচিত বা অজ্ঞাত নয়। যার প্রতি আমি শুরুতেই হাদীটির অর্থ করার পর ইংঙ্গিত দিয়েছিলাম। কেননা উল্লেখিত হাদীস এর সম্পূর্ণ ভার বহনকারী হলেন শুবা ইবনুল হাজ্জাজ। তিনি নিজেই তার পরিচয় উল্লেখ করেছেন যে(- عن الحارث بن عَمرو بن أخي المغيرة بن شُعبة হারেস ইবনে আমর হলো মুগিরা ইবনে শুবা (রহ.) এর ভাই)।

তাহলে তিনি অজ্ঞাত হলেন কি করে? আর তাছাড়াও তিনি ছিলেন বিখ্যাত তাবেয়ী আবিল আওন আস সাকাফী মৃত-166 এর উস্তাদদের তালিকায়, আর তার সম্পর্কে কোন জারাহ তাদীলের ইমামগণ কোন নিন্দীত মন্তব্যও করেন নি বরং প্রশংসিত মন্তব্য করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ হলেন ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.) তিনি তার সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের তালিকায় তাকেও ‍উল্লেখ করেছেন।

আর উলুমে হাদীস এর নিয়ম অনুসারে কোন বর্ণনাকারী সম্পর্কে যদি কোন নিন্দীত মন্তব্য পাওয়া না যায় তাহলে সে সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য। আর এধরনের বর্ণনাকারীগণ বুখারী ও মুসলিম এর মাঝেও রয়েছে ।

অতএব আমাদের কাছে একথা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে হারেস ইবনে আমর কোন (মাজহুল) বা সম্পূর্ণ অজ্ঞাত বা অপরিচিত ব্যক্তি নয়, যা আপত্তিকৃত ব্যক্তিবর্গ দাবী করেছেন। তাই হাদীসটি সহীহ হওয়ার মাঝে কোন বাধা রইলো না।

✏ আপত্তি নং 03 : কতক ইমাম বলেন হাদীসটি মুরসাল। তাই এই হাদীস প্রমাণযোগ নয় বরং যয়ীফ।

✔ আমাদের জবাব : যদি এই হাদীসকে মুরসালও ধরে নেয়া যায়, তাহলেও এই হাদীসটি মুরসাল হাদীস এর গ্রহণযোগ্য প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ হাদীস প্রমাণ যোগ্য।

এ বিষয়ে জারহ ও তাদিলের শিষ্যক ইমাম, আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) যিনি সহীহ বুখারী শরীফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাবিদও, তিনি নিজেই জবাব দিয়েছেন- وَالْمُرْسَلُ أَصَحُّঅর্থাৎ এই হাদীসকে মুরসাল বলে দাবী করা হলেও, হাদীসটি সহীহ।দেখুন আত তালখীসুল হাবীর লি ইবনে হাজার আল আসকালানী (রহ.)-4/446।

আর তাছাড়াও মুরসাল হাদীস যে প্রমাণযোগ্য এই বিষয়ে হাদীসও রিজালের জগতের বিখ্যাত ইমাম আল্লামা ইবনে সালাহ (রহ.) ও তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন। দেখুন-মুকাদ্দামায়ে ইবনে সালাহ-83 ।

আর বিখ্যাত মুহাদ্দীস শায়খ জায়েদ আল কাউসারী (রহ.)ও বলেন এই মুরসাল হাদীস আমাদের নিকট সহীহ। (অতএব মুরসাল বলে আপত্তি পেশ করাও ব্যর্থ হয়ে গেলো।) মাকালাতে কাউসারী-60-61।

অতএব হাদীসটিকে মুরসাল বলে আপত্তি করলেও কোন সমস্যা নেই। কেননা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ও ইবনে সালাহ (রহ.) এর মত মুহাদ্দীসগণ উক্ত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক দ্বীনের বুঝ দান করুন। আমীন!

এছাড়াও এই হাদীসের সমর্থনে রয়েছে আরো অসংখ্য সহীহ বর্ণনা

(সময় সংক্ষিপ্ততার কারণে আমি শুধু মাত্র হাদীসগুলো উল্লেখ করেছি, আপনারা অচিরেই আমার এই ব্লগ এর মাঝে হাদীসগুলোর অর্থ ও মানসহ জানতে পারবেন।)

سنن الدارمي (1/ 269)
171 – أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ حُرَيْثِ بْنِ ظُهَيْرٍ، قَالَ: أَحْسَبُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: ” قَدْ أَتَى عَلَيْنَا زَمَانٌ وَمَا نُسْأَلُ، وَمَا نَحْنُ هُنَاكَ، وَإِنَّ اللَّهِ قَدَّرَ أَنْ بَلَغْتُ مَا تَرَوْنَ. فَإِذَا سُئِلْتُمْ عَنْ شَيْءٍ، فَانْظُرُوا فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَفِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوهُ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ، فَمَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيمَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ، فَاجْتَهِدْ رَأْيَكَ، وَلَا تَقُلْ: إِنِّي أَخَافُ وَأَخْشَى، فَإِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ، وَالْحَرَامَ بَيِّنٌ، وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَةٌ، فَدَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ “

سنن الدارمي (1/ 264)
167 – أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ حُرَيْثِ بْنِ ظُهَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: أَتَى عَلَيْنَا زَمَانٌ لَسْنَا نَقْضِي وَلَسْنَا هُنَالِكَ، وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ قَدَّرَ مِنَ الْأَمْرِ أَنْ قَدْ بَلَغْنَا مَا تَرَوْنَ، «فَمَنْ عَرَضَ لَهُ قَضَاءٌ بَعْدَ الْيَوْمِ، فَلْيَقْضِ فِيهِ بِمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَإِنْ جَاءَهُ مَا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَلْيَقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنْ جَاءَهُ مَا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ، وَلَمْ يَقْضِ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلْيَقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ الصَّالِحُونَ، وَلَا يَقُلْ إِنِّي أَخَافُ، وَإِنِّي أُرَى، فَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ، وَالْحَلَالَ بَيِّنٌ، وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَةٌ، فَدَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ»

سنن النسائي (8/ 231)
5399 – أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ الشَّعْبِيِّ، عَنْ شُرَيْحٍ، أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى عُمَرَ يَسْأَلُهُ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ، «أَنْ اقْضِ بِمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللَّهِ، وَلَا فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ الصَّالِحُونَ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللَّهِ، وَلَا فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ يَقْضِ بِهِ الصَّالِحُونَ، فَإِنْ شِئْتَ فَتَقَدَّمْ، وَإِنْ شِئْتَ فَتَأَخَّرْ، وَلَا أَرَى التَّأَخُّرَ إِلَّا خَيْرًا لَكَ، وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ»

الفقيه والمتفقه للخطيب البغدادي (1/ 476)
أنا أَبُو طَالِبٍ , مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ التَّاجِرُ , أنا أَبُو الْفَتْحِ , مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ الْأَزْدِيُّ الْمَوْصِلِيُّ , نا عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْهَيْثَمِ الْبَلَدِيُّ , نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكِنْدِيُّ , بِالْفُسْطَاطِ , نا أَسَدُ بْنُ مُوسَى , حَدَّثَنَا شُعْبَةُ , عَنْ زُبَيْدٍ الْيَامِيُّ , [ص:477] عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ , عَنْ مُرَّةَ , عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ , قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ قَوْمٍ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ أَمْرِهِمْ , وَمَصْلَحَةٍ فِي أَنْفُسِهِمْ يَرْزُونَ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ , وَيُعْرَفُ الْحَقُّ بِالْمُقَايَسَةِ عِنْدَ ذَوِي الْأَلْبَابِ»

عون المعبود وحاشية ابن القيم (9/ 371)
وَقَدْ اجْتَهَدَ الصَّحَابَةُ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأَحْكَامِ وَلَمْ يُعَنِّفْهُمْ كَمَا أَمَرَهُمْ يَوْمَ الْأَحْزَابِ أَنْ يُصَلُّوا الْعَصْرَ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ فَاجْتَهَدَ بَعْضُهُمْ وَصَلَّاهَا فِي الطَّرِيقِ وَقَالَ لَمْ يُرِدْ مِنَّا التَّأْخِيرَ وَإِنَّمَا أَرَادَ سُرْعَةَ النُّهُوضِ فَنَظَرُوا إِلَى الْمَعْنَى وَاجْتَهَدَ آخَرُونَ وَأَخَّرُوهَا إِلَى بَنِي قُرَيْظَةَ فَصَلَّوْهَا لَيْلًا نَظَرُوا إِلَى اللَّفْظِ وَهَؤُلَاءِ سَلَفُ أَهْلِ الظَّاهِرِ وَأُولَئِكَ سَلَفُ أَصْحَابِ الْمَعَانِي وَالْقِيَاسِ

وَلَمَّا كَانَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِالْيَمَنِ أَتَاهُ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ يَخْتَصِمُونَ فِي غُلَامٍ فَقَالَ كُلٌّ مِنْهُمْ هُوَ ابْنِي فَأَقْرَعَ عَلِيٌّ بَيْنَهُمْ فَجَعَلَ الْوَلَدَ لِلْقَارِعِ وَجَعَلَ عَلَيْهِ لِلرَّجُلَيْنِ ثُلُثَيِ الدِّيَةِ فَبَلَغَ النبي صلى الله عليه وَسَلَّمَ فَضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ مِنْ قَضَاءِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ

وَاجْتَهَدَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ وَحَكَمَ فِيهِمْ بِاجْتِهَادِهِ فصوبه النبي صلى الله عليه وَسَلَّمَ وَقَالَ لَقَدْ حَكَمْتَ فِيهِمْ بِحُكْمِ اللَّهِ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ

وَاجْتَهَدَ الصَّحَابِيَّانِ اللَّذَانِ خَرَجَا فِي سَفَرٍ فَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ وَلَيْسَ مَعَهُمَا مَاءٌ فَصَلَّيَا ثُمَّ وُجِدَ الْمَاءُ فِي الْوَقْتِ فَأَعَادَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُعِدِ الْآخَرُ فَصَوَّبَهُمَا وَقَالَ لِلَّذِي لَمْ يُعِدْ أَصَبْتَ السُّنَّةَ وَأَجْزَأَتْكَ صَلَاتُكَ وَقَالَ لِلْآخَرِ لَكَ الْأَجْرُ مَرَّتَيْنِ


وَلَمَّا قَاسَ مُجَزِّزٌ الْمُدْلِجِيُّ وَقَافَ وَحَكَمَ بِقِيَاسِهِ وَقِيَافَتِهِ عَلَى أَنَّ أَقْدَامَ زَيْدٍ وَأُسَامَةَ ابْنِهِ بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ سُرَّ بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَرَقَتْ أَسَارِيرُ وَجْهِهِ مِنْ صِحَّةِ هَذَا الْقِيَاسِ وَمُوَافَقَتِهِ لِلْحَقِّ وَكَانَ زَيْدٌ أَبْيَضَ وَابْنُهُ أُسَامَةُ أَسْوَدَ فَأَلْحَقَ هَذَا الْقَائِفُ الْفَرْعَ بِنَظِيرِهِ وَأَصْلِهِ وَأَلْغَى وَصْفَ السَّوَادِ وَالْبَيَاضِ الَّذِي لَا تَأْثِيرَ لَهُ فِي الْحُكْمِ 

وَقَدْ تَقَدَّمَ قَوْلُ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي الْكَلَالَةِ أَقُولُ فِيهَا بِرَأْيِي فَإِنْ يَكُنْ صَوَابًا فَمِنَ اللَّهِ وَإِنْ يَكُنْ خَطَأً فَمِنِّي وَمِنَ الشَّيْطَانِ أَرَاهُ مَا خَلَا الْوَالِدِ وَالْوَلَدِ فَلَمَّا اسْتُخْلِفَ عُمَرُ قَالَ إِنِّي لَأَسْتَحْيِي مِنَ اللَّهِ أَنْ أَزْدَادَ شَيْئًا قَالَهُ أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ الشَّعْبِيُّ عَنْ شُرَيْحٍ قَالَ قَالَ لِي عُمَرُ اقْضِ بِمَا اسْتَبَانَ لَكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمْ كُلَّ كِتَابِ اللَّهِ فَاقْضِ بِمَا اسْتَبَانَ لَكَ مِنْ قَضَاءِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّ لَمْ تَعْلَمْ قَضَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وَسَلَّمَ فَاقْضِ بِمَا اسْتَبَانَ لَكَ مِنْ أَئِمَّةِ الْمُهْتَدِينَ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمْ كُلَّ مَا قَضَتْ به أئمة الْمُهْتَدِينَ فَاجْتَهِدْ رَأْيَكَ وَاسْتَشِرْ أَهْلَ الْعِلْمِ وَالصَّلَاحِ

وقد اجتهد بن مَسْعُودٍ فِي الْمُفَوِّضَةِ وَقَالَ أَقُولُ فِيهَا بِرَأْيِي وَوَفَّقَهُ اللَّهُ لِلصَّوَابِ
وَقَالَ سُفْيَانُ بْنُ عَبْدِ الرحمن الأصبهاني عن عكرمة قال أرسلني بن عَبَّاسٍ إِلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَسَالَهُ عَنْ زَوْجٍ وَأَبَوَيْنِ فَقَالَ لِلزَّوْجِ النِّصْفُ وَلِلْأُمِّ ثُلُثُ مَا بَقِيَ وَلِلْأَبِ بَقِيَّةُ الْمَالِ فَقَالَ تَجِدُهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ أَوْ تَقُولُهُ بِرَأْيِكَ قَالَ أَقُولُهُ بِرَأْيِي وَلَا أُفَضِّلُ أُمًّا عَلَى أَبٍ
وَقَايَسَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فِي الْمُكَاتَبِ
وَقَايَسَهُ في الجد والإخوة


وقاس بن عَبَّاسٍ الْأَضْرَاسَ بِالْأَصَابِعِ وَقَالَ عَقْلُهَا سَوَاءٌ اعْتَبِرُوهَا بِهَا
قَالَ الْمُزَنِيُّ الْفُقَهَاءُ مِنْ عَصْرِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى يومنا وهلم جرا استعلموا الْمَقَايِيسَ فِي الْفِقْهِ فِي جَمِيعِ الْأَحْكَامِ فِي أَمْرِ دِينِهِمْ قَالَ وَأَجْمَعُوا بِأَنَّ نَظِيرَ الْحَقِّ حَقٌّ وَنَظِيرَ الْبَاطِلِ بَاطِلٌ فَلَا يَجُوزُ لِأَحَدٍ إِنْكَارُ الْقِيَاسِ لِأَنَّهُ التَّشْبِيهُ بِالْأُمُورِ وَالتَّمْثِيلُ عَلَيْهَا انْتَهَى
وَاللَّهُ أَعْلَمُ

এই হাদীস নিয়ে যারা অন্যদের প্রতি অনাধিকার চর্চা করেছেন

✿ প্রথমত দেখুন শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানীর আচরণ : তিনি উক্ত হাদীসটিকে তার কিতাবে উল্লেখ করার পর অসংখ্য মুহাদ্দীসগণের উপর অনাধিকার চর্চা করেছেন। এর পাশাপাশি গরম করেছেন হাদীসের জগৎকে নিজ মনগড়া অনেক মতবাদ দিয়ে। যা আমি এখানে তুলে ধরলে প্রায় 200 পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা রূপ নিবে। আর আমার জানা মতে তিনি এই হাদীসটিকে যয়ীফ বানানোর জন্য যত চেষ্টা করেছেন, অন্য কোন হাদীস নিয়ে এত চেষ্টা করেন নি। যাই হোক এখন আমি মুহাদ্দীসদের সঙ্গে তার আচরণের মাত্র একটি দৃষ্টান্ত পেশ করব-

سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيئ في الأمة (2/ 277)
تنبيه آخر: ذهب الشيخ زاهد الكوثري المعروف في مقال له إلى تقوية هذا الحديث، وليس ذلك بغريب منه ما دام أنه قد سبق إليه، ولكن الغريب حقا أنه سلك في سبيل ذلك طريقا معوجة، لا يعرفها أهل الجرح والتعديل، فرأيت أن أنقل خلاصة كلامه فيه، ثم أرد عليه وأبين خطأه وزغله.

দ্বিতীয় সংকেত বানী : (বিখ্যাত মুহাদ্দেস শায়খ যায়দ আল কাওসারী রহ.) এর সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, কাওসারী সাহেব এই হাদীসটিকে শক্তিশালী বানানোর লক্ষে একটি একটি প্রবন্ধও লিখেছেন, যা কারো কাছে অপরিচিত নয় কিন্তু অপরিচয়ের বিষয় হলো তিনি তাতে অনেক লম্বা চওড়া বাঁকা পথে চলেছেন। যা কোন জরাহ ও তাদীলের ইমামগণও চিনেন না। অতএব আমি এখানে তার প্রবন্ধটির সংক্ষিপ্ত রূপে সংকলন করে  তার ভূল এবং ছিটকে পড়ার বিষয়গুলোও উল্লেখ করবো। সিলসিলাতুয যয়ীফা-2/277

এই হল শায়খ যায়েদ আল কাওসারীর শানে আলবানী সাহেবের কিছু আচরণ!!

❁ তার একটু পর তিনি শুরু করলেন ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.) এর সাথেও খারাপ আচরণ দেখুন-

سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيئ في الأمة (2/ 281)
والآخر: اعتداده بتوثيق ابن حبان هنا خلاف مذهبه الذي يصرح في بعض تعليقاته (1) بأن ابن حبان يذكر في ” الثقات من لم يطلع على جرح فيه، فلا يخرجه ذلك عن حد الجهالة عند الآخرين، وقد رد شذوذ ابن حبان هذاالخ

সার সংক্ষেপ :  ইবনে হিব্বান মুহাদ্দীসদের নিয়ম এর বাহিরে গিয়ে বিভিন্ন বর্ণনাকারীকে সিকাহ বা নির্ভের বলে থাকে…….. আর ইবনে হিব্বান অনেক জন কে সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য বলেন যা অন্য মুহাদ্দীনগণের নিকট মুর্খতার নামন্তর। এছাড়াও রয়েছে তার আরো অনেক ভুল। সিলসিলাতুয যয়ীফা-2/281

এই হলো ইমাম ইবনে হিব্বান এর শানে শায়খ আলবানীর আচরণ, তিনি কেন উল্লেখিত হাদীসের বর্ণনাকারী হারেস ইবন আমর কে সিকাহ বা নির্ভর বললেন?

✿ তারপর দেখুন আল্লামা ইবনে তাহের এর আচরণ :  মুয়ায (রা.) এর হাদীসটিকে আল্লামা জুয়াইনি যিনি ইমামুল হারামাইন নামে প্রসিদ্ধ তিনি সহীহ বলার কারণে তার সাথে আচরণ-

 التلخيص الحبير ط العلمية (4/ 447)
قَالَ ابْنُ طَاهِرٍ فِي تَصْنِيفٍ لَهُ مُفْرَدٍ فِي الْكَلَامِ عَلَى هَذَا الحديث: اعلم أني فَحَصْت عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فِي الْمَسَانِيدِ الْكِبَارِ وَالصِّغَارِ وَسَأَلْت عَنْهُ مَنْ لَقِيته مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالنَّقْلِ, فَلَمْ أَجِدْ لَهُ غَيْرَ طَرِيقِينَ, أَحَدَهُمَا طَرِيقُ شُعْبَةَ, وَالْأُخْرَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جابر, عن أشعت بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ, عَنْ رَجُلٍ مِنْ ثَقِيفٍ, عَنْ مُعَاذٍ, وَكِلَاهُمَا لَا يَصِحُّ, قَالَ: وَأَقْبَحُ مَا رَأَيْت فِيهِ قَوْلُ إمَامِ الْحَرَمَيْنِ فِي كِتَابِ “أُصُولِ الْفِقْهِ”. وَالْعُمْدَةُ فِي هَذَا الْبَابِ عَلَى حَدِيثِ مُعَاذٍ, قَالَ: وَهَذِهِ زَلَّةٌ مِنْهُ, وَلَوْ كَانَ عَالِمًا بِالنَّقْلِ لَمَا ارْتَكَبَ هَذِهِ الْجَهَالَةَ.
قُلْت: أَسَاءَ الْأَدَبَ عَلَى “إمَامِ الْحَرَمَيْنِ”, وَكَانَ يُمْكِنُهُ أَنْ يُعَبِّرَ بِأَلْيَنَ مِنْ هَذِهِ الْعِبَارَةِ, مَعَ أَنَّ كَلَامَ إمَامِ الْحَرَمَيْنِ أَشَدُّ مِمَّا نَقَلَهُ عَنْهُ,

সার সংক্ষেপ : ইমাম ইবেন তাহের তার লিখিত গ্রন্থ ‘মুফরাদ’ এর মাঝে বলেন,…….আমি এ হাদীসটির বিষয়ে ইমামুল হারামাইন থেকে খারাপ মন্তব্যকারী কাউকে দেখি নি (!) এটি হলো তার একটি বড় ভুল, সে যদি প্রকৃত পক্ষে আলেম হয়ে থাকে তাহলে সে এধরনের ভুল তথা হাদীসটিকে সহীহ বলে মন্তব্য করতো না।

আল্লাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) উক্ত ঘটনা তার কিতাবে উল্লেখ করে বলেন, ইবনে তাহের ইমামুল হারামাইন এর শানে অনেক বড় বে’আদবী করেছে, তাকে আরো নরম ভাষায় বলার প্রয়োজন ছিল। কেননা ইমামুল হারামাইন এর শানে এধরনের কঠোর আচরণ ঠিক নয়। আত তালখীসুল হাবীর-4/447 ।

❐ এই হলো যুগে যুগে বড় ইমামদের  সাথে সালাফীদের আচরণ।

✔ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাহকীক এর সহিত প্রকৃত দ্বীন বুঝার তাওফীক দান করুন । আমীন

✍ ইতি মুফতী মো. ছানা উল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *