নামাযে মোবাইল বেজে উঠলে করণীয়

Shortlink:

الحمد لله الذي هدنا الي سبيل الرشاد وانعم علينا بالهداية والشداد وأحسن علينا باعطاء نعمة الصلاة التي هي رافع جميع المشكلات والآفات، والصلوة والسلام علي سيدنا ومولانا محمد وآله وأصحابه أجمعين.

নামায একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বান্দা ও আল্লাহর মাঝে সম্পর্ক গড়ে উঠার মাধ্যম। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করা হয়। যেহেতু নামায মানেই হলো মহান প্রতিপালকের সামনে উপস্থিতি। তাই তা হওয়া উচিত একান্ত একাগ্রতা ও একাত্মতার সাথে। ইদানিং আমাদের দেশে প্রায় মানুষই মোবাইল ব্যবহার করে। কোন কল আসলো কি না ? তা বুঝার জন্য ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম রিংটোন। বিভিন্ন বাদ্য ও গানের সুরের এসকল রিংটোন অনেক সময় নামাযের মধ্যেও বেজে উঠে । ফলে মুসল্লিদের নামাযে ব্যাঘাত ঘটে। আর অনেকে মাসআলা না জানার কারণে সীমাহীন ভৎসনা ও শোরগোল করে। এ ব্যাপারে সঠিক মাসআলা জানা সময়ের দাবি।

মসজিদের মুসল্লিদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় (১) সাধারণ মুসল্লি (২) ইমাম সাহেব (৩) মোবাইল ব্যবহারকারী।
নিম্নে প্রত্যেকের করণীয় পর্যালোচনা করা হলো।

মুসল্লিদের করণীয়
প্রথমত ধৈর্য ধারণ করা। সঠিক মাসআলা জানা থাকলে তা জানিয়ে দেওয়া। হৈ হুল্লোড় করে তাকে বকাঝকা করে দেয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়। শরীয়তও এমন কাজ সমর্থন করে না।
রাসূল স. ইরশাদ করেন-

عن أبي هريرة(رض) عن النبي صلي الله عليه وسلم قال: من قال لصاحبه يوم الجمعة والامام يخطب انصت فقد لغا. (نسائي : ১/১৫৭)
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্র্ণিত রাসূল স. বলেন, জুমার দিন খুৎবা চলাকালীন যে ব্যক্তি তার পাশের ব্যক্তিকে বলল চুপ করো সে অনর্থক কাজ করল।
সুতরাং সাধারণ নামাযের সময়ও এই হুকুম প্রয়োগ হতে পারে। কারণ মসজিদ ইবাদতের স্থান। সেখানে বিঘœতা ঘটানো কোনোভাবেই উচিত নয়। অনেক সময় দেখা যায়, যার মোবাইল বেজে উঠেছে তাকে লক্ষ্য করে মসজিদ জুড়ে চিৎকার এমনকি গালমন্দ পর্যন্ত করা হয়, এটা একেবারেই অনুচিত। রাসূল স. এমনটি করতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম মুসলিম র. বর্ণনা করেন-

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَبِى طَلْحَةَ حَدَّثَنِى أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ – وَهُوَ عَمُّ إِسْحَاقَ – قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ فِى الْمَسْجِدِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم- إِذْ جَاءَ أَعْرَابِىٌّ فَقَامَ يَبُولُ فِى الْمَسْجِدِ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- مَهْ مَهْ. قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র لاَ تُزْرِمُوهُ دَعُوهُ গ্ধ. فَتَرَكُوهُ حَتَّى بَالَ. ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ ্র إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لاَ تَصْلُحُ لِشَىْءٍ مِنْ هَذَا الْبَوْلِ وَلاَ الْقَذَرِ إِنَّمَا هِىَ لِذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَالصَّلاَةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ …. (رواه مسلم:رقم الحديث: ৬৮৭)

একদিন এক বেদুইন সাহাবী রাসূল স. এর সামনে মসজিদের ভেতরেই পেশাব করতে আরম্ভ করল। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম তাকে ধমক দিতে শুরু করলেন। রাসূল স. তাদেরকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, তাকে তার কাজ শেষ করতে দাও। লোকটির পেশাব করা শেষ হলে রাসূল স. তাকে সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিলেন। এটা নামায ও যিকির আযকারের স্থান; পেশাবের স্থান নয়। অবশেষে মসজিদের যে জায়গায় সে পেশাব করেছিল সেটি সাহাবিদেরকে পবিত্র করার নির্দেশ দিলেন। (বুখারী শরীফ- নং ২১৯)
এ হাদীসে মসজিদের আদব, পরিবেশ রক্ষা এবং একজন সরল অপরাধীর প্রতি আচরণ বিষয়ক নীতির অত্যন্ত চমকপ্রদ শিক্ষা রয়েছে। একটু চিন্তা করলেই এটি আমরা আমাদের জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করতে পারি।

ইমাম সাহেবের দায়িত্ব ও করণীয়
এ ব্যাপারে ইমাম সাহেবের ভূমিকাই সবচে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী। পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে তিনি নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন।
ক. সম্ভব হলে ওই ব্যক্তিকে কাছে ডেকে সুন্দরভাবে সঠিক মাসআলা বলে দিবেন। যেমনটি রাসূল স. এক বেদুঈন সাহাবীর সাথে করেছিলেন।
খ. নিয়মিত দু’একটি করে হলেও বিভিন্ন সময় সুযোগ বুঝে এ ধরণের নিত্যদিনের মাসআলাগুলো মুসল্লিদের বলতে থাকবেন।
গ. পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে ইমার সাহেব তাৎক্ষনিক দাঁড়িয়েও এ মাসআলার সমাধান বলে দিতে পারেন। এতে করে মসজিদে শোরগোল, বাকবিতন্ডা কম হবে এবং সহজেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

মোবাইল ব্যবহারকারীর করণীয়
ক. মসজিদে প্রবেশের পূর্বেই মোবাইল বন্ধ করে নিবে।
খ. রিংটোন বন্ধ করে নিবে।
মোবাইল বন্ধ না করে শুধু ভাইব্রেশন দিয়ে রাখা ঠিক নয়। কেননা ভাইব্রেশন অবস্থায় কল আসার দরুন যে কম্পন অনুভব হয়, এতে নিজের এবং পার্শ্ববর্তী মুসল্লির নামাযের একাগ্রতায় বিঘœ ঘটে।
মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। মনের ভুলে রিংটোন চালু করেই নামাযে দাঁড়িয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে কল এলে করণীয় কি ? এ বিষয়টি নিম্নে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
নামায অবস্থায় রিংটোন বন্ধ করার বিধান
সম্ভব হলে মোবাইল পকেটে রেখেই নির্দিষ্ট বাটন চেপে রিং বন্ধ করে দিবে।
পকেট থেকে বের করার প্রয়োজন হলে এক হাতেই বের করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব না দেখে দ্রুত বন্ধ করে পকেটে রেখে দিবে।
কারণ নামাযে বিশেষ প্রয়োজনে কেবল এক হাত ব্যবহারেরই অনুমতি রয়েছে। যেমন: টুপি উঠানো, জামার হাতা নামানো, সেজদার স্থানের কঙ্কর সরানো, শরীরের কোন স্থান চুলকানো ইত্যাদি কাজে এক হাত ব্যবহার করা শরীয়তসম্মত।
মোবাইল দেখে এক হাত দ্বারা বন্ধ করার হুকুম
দেখে দেখে এক হাত দিয়ে বন্ধ করা আমলে কাছীরের সাদৃশ্য হওয়ায় তা করা যাবে না। কেননা এ অবস্থায় কেউ তাকে দেখলে বলবে সে নামাযে নেই। আর এতটুকু মনে করাই আমলে কাছীর হওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। সুতরাং এমনটি করলে তাকে পুনরায় এ নামায আদায় করতে হবে।
আল্লামা শামী র. বলেন-
التفويض الي رأي المصلي،فان استكثره فكثير والا فقليل. (رد المحتار:২/৩৮৫)
মুসল্লির সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেয়া হবে যদি সে বেশি মনে করে তাহলে তা বেশি অন্যথায় কম।
দুররে মুখাতার গ্রন্থে রয়েছে-
اصحها مالايشك بسببه الناظر من بعيد في فاعله أنه ليس فيها وان شك أنه فيها أم لا فقليل. (الدر المختار: ২/৩৮৫)
দূর থেকে যদি কেউ কোন মুসল্লিকে দেখে মনে করে যে সে নামাযে নেই তাহলে সেটা আমলে কাছীর বলেই গণ্য হবে। এটাই সঠিক। আর যদি তার নামাযে অবস্থান নিয়ে সন্দেহ হয় তাহলে সেটা কম বলে গণ্য হবে।

দুই হাত দ্বারা মোবাইল বন্ধ করার হুকুম
নামাযে মোবাইল বন্ধ করার জন্য একসাথে দুই হাত ব্যবহার করা যাবে না। যদি একসাথে দুই হাত ব্যবহার করে তবে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ এটাও আমলে কাছীরের অন্তর্ভুক্ত।

আল্লামা শামী র. বলেন-
* القول الثاني أن ما يعمل عادة باليدين كثير وإن عمل بواحدة كالتعميم وشد السراويل وما عمل بواحدة قليل وإن عمل بهما كحل السراويل ولبس القلنسوة ونزعها إلا إذا تكرر ثلاثا متوالية.(رد المحتار:২/৩৮৫)
সাধারণত যে সমস্ত কাজ দুই হাত দ্বারা করা হয় সেগুলো আমলে কাছীর। …যদি এক হাতে একবারের বেশি লাগাতার তিনবার করে, তাহলে তাও আমলে কাছীর হবে।

নামাযে একাগ্রতার গুরুত্ব
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (১) الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ (২) (المؤمنون ১-২)

সফলকাম ওই সকল মুমিন যারা তাদের নামাযে অধিক বিনয়ী।
তাই কোন নামাযি ব্যক্তির পেশাব পায়খানার বেগ হওয়ার দরুন একাগ্রতার সমস্যা হলে তার নামায ছেড়ে দেয়ার অনুমতি রয়েছে। ফাতওয়ার কিতাবসমূহে এ ব্যাপারে নামায ছেড়ে দেয়া উত্তম বলা হয়েছে। আবার কেউ কেউ ওয়াজিব ও বলেছেন।
নামাযে মোবাইল বেজে উঠলে শুধু ব্যবহারকারীর নামাযেই বিঘœ ঘটে না বরং আশপাশের মুসল্লিদেরও বিঘœ ঘটে। তাই এক হাতে মোবাইল বন্ধ করা সম্ভব না হলে দুই হাত দ্বারা হলেও বন্ধ করা উচিত। কেননা ফিকহের কিতাবসমূহে মসজিদে নিষিদ্ধ কাজগুলো উল্লেখ করে বলা হয়েছে –
وكذا كل مؤذ ولو بلسانه (الدر المختار:২/৪৩৫)
প্রত্যেক কষ্টদায়ক বস্তু যদিও তা মুখ দ্বারা হয় তা নিষিদ্ধ ।

রাসূূল স. বলেন-
قال النبي صلى الله عليه و سلم المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده
رواه البخاري رقم الحديث:৬১১৯)
প্রকৃত মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে অপর মুসলিম নিরাপদ”

আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন আমার দ্বারা কোনো মুসলিম ভাইয়ের ক্ষতি না হয়। আর একাধারে রিং বাজার কারণে নামায শেষে বাকি মুসল্লিদের যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তা আরেক ফিতনা। সুতরাং বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতম স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে হলেও দুই হাত দ্বারা মোবাইল বন্ধ করা উত্তম । আর দুই হাত দ্বারা মোবাইল বন্ধ করলে যেহেতু নামায ভঙ্গ হয়ে যায় তাই নতুন করে নামায শুরু করবে।

নামাযে একাধিকবার রিং বন্ধ করার হুকুম
নামাযে একই রোকনে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময়ের ভিতর এক হাতে করা যায় এমন কাজ যেমন: মোবাইলের রিংটোন বন্ধ করা, টুপি উঠানো বা সেজদার স্থানের কঙ্কর সরানোর জন্য সর্বোচ্চ দুইবার অনুমতি রয়েছে। এর অধিক করলে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। ফাতওয়া হিন্দিয়া, খুলাসাতুল ফাতওয়া এবং বাহরুর রায়েকে উল্লেখ রয়েছে-
وإن حك ثلاثا في ركن واحد تفسد صلاته هذا إذا رفع يده في كل مرة أما إذا لم يرفع في كل مرة فلا تفسد لأنه حك واحد ا هـ. (البحر الرائق : ২/২০) وكذا في الفتاوي الهندية: ১/১০১، خلاصة الفتاوي: ১/১২৯)
কেউ যদি একই রোকনে হাত উঠিয়ে তিনবার শরীরের কোন স্থান চুলকায় তাহলে তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে।
ফাতওয়া শামীতে ও উল্লেখ রয়েছে-
الثالث: الحركات الثلاثة المتواليةكثيروالا فقليل. (رد المحتار:২/৩৮৫)
একাধারে তিনবার নড়াচড়া করা আমলে কাছীর হিসাবে গণ্য হবে, অন্যথায় আমলে কালীল বিবেচিত হবে।

মসজিদে মোবাইলে কথা বলা
মসজিদ আল্লাহর ঘর। তার পবিত্রতা ও সম্মান বজায় রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরী। এখানে অন্য ইবাদতকারীর মনোযোগে বিঘœ ঘটায় মত বৈধ কথাও না জায়েয। অথচ আফসোস বর্তমানে যেনো মসজিদ কথা বলার জন্য খুব উপযোগী স্থানে পরিণত হয়েছে। অনেক মুসল্লি এখানে এসে অপ্রয়োজনীয় কথা-বার্তা বলা শুরু করে, অথচ তা কাম্য নয়। তাই মসজিদে মোবাইলে কথা বলা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। তবে মসজিদে ইবাদাতের উদ্দেশ্যে এসে অন্য ইবাদতকারীর ক্ষতি না হয় মতো বৈধ জরুরী কথা-বার্তা বলার অবকাশ আছে। (হিন্দিয়া ৫/৩২১)

খুতবা চলাকালীন কল আসলে করণীয়
শরয়ী বিধান হলো, খুতবা চলাকালে কথা বলা যাবে না। তাই মসজিদে প্রবেশের পূর্বেই মোবাইল বন্ধ করে নিবে। ভুলবশত বন্ধ না করার কারণে যদি খুতবা চলাকালে কল আসলে সাথে সাথে মোবাইল বন্ধ করে দিবে। ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়াতে উল্লেখ আছে-
وَيَحْرُمُ فِي الْخُطْبَةِ مَا يَحْرُمُ فِي الصَّلَاةِ حَتَّى لَا يَنْبَغِيَ أَنْ يَأْكُلَ أَوْ يَشْرَبَ وَالْإِمَامُ فِي الْخُطْبَةِ، هَكَذَا فِي الْخُلَاصَةِ…….. أَنْ يَسْمَعُوا الْخُطْبَةَ مِنْ أَوَّلِهَا إلَى آخِرِهَا

অর্থ: খুতবা চলাকালে ঐ সব কাজকর্ম অবৈধ যে গুলো নামাযে অবৈধ। তাই খুতবা চলাকালে খানা-পিনা করা বৈধ নয়; বরং খুতবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুনা আবশ্যক। (হিন্দিয়া ১/২০৮)

খুতবার সময় কল আসলে ইমাম সাহেবের করণীয়
খুতবা প্রদানকালে ইমাম সাহেবের কল এলে তিনিও রিসিভ না করে; বরং মোবাইল বন্ধ করে দিতে হবে। (হিন্দিয়া ১/২০৮)

মসজিদের বিদ্যুত দ্বারা মোবাইল চার্জ করা
মসজিদের বিদ্যুৎ ইবাদতের সময় ছাড়া অন্য সময় বা অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা জায়েয নেই। তবে অনন্যোপায় হয়ে যদি মোবাইল চার্জ দিতেই হয় তাহলে কিছু টাকা মসজিদের ফান্ডে জমা করে দেয়া উচিত।
ফাতওয়ায়ে শামীতে উল্লেখ আছে-
وَلَا يَحْمِلُ الرَّجُلُ سِرَاجَ الْمَسْجِدِ إلَى بَيْتِهِ…….
অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির জন্য মসজিদের বাতি নিজ ঘরে জ্বালানো বৈধ নয় । তা জ্বালানোর দ্বারা মূল্য আদায় করে দেয়া আবশ্যক।

মোবাইলের বিবিধ মাসায়েল

রিংটোন হিসাবে আযান, যিকির এবং তিলাওয়াতের ব্যবহার
শরয়ী বিধান হলো, আযান, যিকির, তিলাওয়াত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং সাওয়াবের আশায় বৈধ। রিংটোনের উদ্দেশ্য হলো, কলার কাঙ্খিত ব্যক্তির সাথে কথা বলতে আগ্রহী। এটা অনেকটা দরজায় আওয়াজ দেয়ার মতো। এই উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াত অথবা আযানের আওয়াজকে ব্যবহার করা পবিত্র শব্দসমূহকে অবমাননা ও অপাত্রে ব্যবহার করার শামিল। বিজ্ঞ মুফতিগণ এ উদ্দেশ্যে যিকিরের কালিমাগুলো ব্যবহার করা নাজায়েয বলেছেন। অতএব মোবাইলের রিংটোন হিসেবে কুরআনের তিলাওয়াত, আযান এবং যিকির ইত্যাদি ব্যবহার করা নাজায়েয ।
অনেক সময় এমনও হয় যে, বাথরুমে কল আসার কারণে সেখানে তিলাওয়াত বাজতে থাকে। এর দ্বারা তিলাওয়াত ও আল্লাহর যিকিরের অবমাননা হয়। তা থেকে বিরত থাকা সকল মুসলমানের অপরিহার্য কর্তব্য। মোবাইলে রিংটোন হিসাবে সাধারণ রিংটোন সেট করা উচিত । (হিন্দিয়া ৫/৩১৬, আল আশবাহ পৃ.৫৩)

রিংটোন হিসেবে গানের ব্যবহার
মোবাইলে রিংটোন হিসাবে গানের ব্যবহার জায়েয নেই; বরং গুনাহের কাজ।
ফাতওয়া শামীতে উল্লেখ আছে-
وَاسْتِمَاعُ ضَرْبِ الدُّفِّ وَالْمِزْمَارِ وَغَيْرِ ذَلِكَ حَرَامٌ
গান বাজনা ইত্যাদি শ্রবণ করা সম্পূর্ণ হারাম। (শামী ৯/৫৬৬)

ওয়েলকাম টিউন হিসেবে তিলাওয়াত বা গান ইত্যাদির ব্যবহার
কল সংযোগ হয়েছে কি না তা জানার জন্য যে আওয়াজ হয় তাকে ওয়েলকাম টিউন বলে। বর্তমানে অনেকে তাদের মোবাইলে কল সংযোগ অবগতির আওয়াজে তিলাওয়াত, যিকির, আযান, ইসলামিক গান বা শুধু গান বাজনা সেট করে রাখে। এর জন্য অবশ্য প্রতি মাসে কোম্পানীকে নির্ধারিত অংকে চার্জ দিতে হয়। এগুলো যার মোবাইলে থাকে সে শুনতে পায় না। বরং তার মোবাইলে যারা কল করে তারা শুনতে পায়।
এখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, ওয়েলকাম টিউন ব্যবহারের শরয়ী বিধান কী ?
উত্তর হলো, রিংটোন হিসেবে তিলাওয়াত, আযান ও যিকির ব্যবহার যেসব কারণে অবৈধ। সেসব কারণে ওয়েলকাম টিউনেও সেগুলোর ব্যবহার অবৈধ। রিংটোন হিসেবে গান ব্যবহার যে কারণে অবৈধ সে কারণেই ওয়েলকাম টিউনেও গানের ব্যবহার অবৈধ।

মোবাইল থেকে গান শুনার বিধান
প্রচলিত অর্থে গান এবং বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শুনা সর্বাবস্থায় হারাম। অডিও, ভিডিও, মোবাইল কিংবা অন্যকোনো মাধ্যম সব গুলোর একই হুকুম।

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
مَنْ جَلَسَ إِلَى قَيْنَةٍ يَسْمَعُ مِنْهَا صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْآنُكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
রাসূল স. বলেন. যে ব্যক্তি গায়িকা থেকে গান শুনলো, কিয়ামতের দিন তার কানে গলিত শীশা ঢেলে দেয়া হবে। (কুরতুবী ৭/২১)

অন্য বর্ণনায় এসেছে-
اسْتِمَاعُ الْمَلَاهِي مَعْصِيَةٌ وَالْجُلُوسُ عَلَيْهَا فِسْقٌ وَالتَّلَذُّذُ بِهَا كُفْرٌগ্ধ أَيْ بِالنِّعْمَةِ
গান বাজনা শ্রবণ করা এবং এতে অংশগ্রহণ করা মারাত্মক গুনাহ। গান বাজনা শুনে আনন্দ উপভোগ করা কুফুরীর শামিল। (দুররুল মুখতার ৯/৫০৪)

মোবাইলে ক্রিকেট ম্যাচ দেখা
প্রচলিত ক্রিকেট খেলা ও তা দেখা দ্বারা নামায ইত্যাদিতে গাফলতি আসা এবং অনর্থক সময় অপচয় হওয়ায় তা নিঃসন্দেহে না জায়েয। অনেক সময় গুনাহের কাজেও লিপ্ত হতে হয়। কেননা খেলার মাঝে মাঝে অশ্লীল ফটো ও বিজ্ঞাপণচিত্র দেখানো হয়। যা থেকে দৃষ্টি ফিরানো অনেক মুশকিল।

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসূল স. বলেন-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مِنْ حُسْنِ إِسْلاَمِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لاَ يَعْنِيهِ.

অনর্থক ও অহেতুক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকাই দীনের সৌন্দর্য। (তিরমিযী হাদীস নং ২৩১৮)
কাশফুল আসতার নামক কিতাবে উল্লেখ আছে,
ان الملاهي كلها حرام، الثلاثة مستثنيات في الحديث وهي ملاعبة الرجل اهله وتاديب فرسه ورمية بقوسه. (كشف الاستار: ২/২৩৮)
তিন প্রকার খেলা ব্যতীত অন্য সব খেলা হারাম।
১. স্ত্রীর সাথে খেলা করা ২. ঘোড় দৌড় ৩. তীর নিক্ষেপ

মোবাইলে গেমস খেলার বিধান
মোবাইলে গেমস খেলা মানেই সময়ের অপচয়। তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কেননা হাদীস শরীফে অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। (তিরমিযী হাদীস ২৩১৮)

বিনা অনুমতিতে মোবাইলে কথা রেকর্ড করা
সাধারণ অবস্থায় বিনা অনুমতিতে কারো কথা রেকর্ড করা না জায়েয। কেননা রাসূল স. বলেছেন, মজলিসের কথা আমানত। রেকর্ড করার দ্বারা এ আমানত সংরক্ষিত থাকে না; বরং তা অন্যজন পর্যন্ত পোঁছার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যদি এমন হয় যে, ঋণগ্রহিতা অন্যের সম্মুখে ঋণের কথা স্বীকার করে না; কিন্তু একাকী হলে স্বীকার করে। তাহলে তার স্বীকারোক্তি গোপনে হলেও রেকর্ড করা যাবে।
তিরমিযী শরীফে বর্ণিত আছে-
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ الحَدِيثَ ثُمَّ التَفَتَ فَهِيَ أَمَانَةٌ.
রাসূল স. ইরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে যাওয়ার পর শ্রোতার নিকট তা আমানতস্বরূপ। (তিরমিযী ২/১৭)

ঋণ অনাদায়ের লক্ষ্যে মোবাইল বন্ধ রাখা
ঋণ আদায়ে টালবাহানা করা জুলুম। এর জন্য যেকোনো পন্থা অবলম্বন করা না জায়েয। অতএব পাওনা আদায়ে সময় নেয়ার প্রয়োজন হলে পাওনাদারদের সাথে কথাবার্তা বলে সময় নেয়া উচিত। মোবাইল ফোন বন্ধ রাখা নিষেধ।
রাসূল স. বলেন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রمَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ
ঋণ আদায়ে টালবাহানা করা এক প্রকার জুলুম। (মুসলিম শরীফ ২/১৮)

মোবাইলে মিস্ডকল দেয়ার বিধান
পূর্ব থেকেই চুক্তি বা কথা হয়ে থাকলে মিস্ডকল দিতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে মিস্ড কল দিয়ে বিরক্ত ও পেরেশান করা জায়েয নেই।
এক্ষেত্রে একটি কথা বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, বড়দের মিস্ড কল দেয়া অভদ্রতা। আর অধিনস্ত বা ছোটদের মিস্ড কল দেয়া আত্মমর্যাদা পরিপন্থী।
বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে-
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রالمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ المُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
অর্থ রাসূল স. বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সে যার হাত ও মুখ হতে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে। (বুখারী ১/৬)
তাই অপ্রয়োজনে যেখানে সেখানে যখন তখন মিস্ডকল দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

মোবাইল স্ক্রীনে আল্লাহ ও রাসূল স.-এর নাম লেখা
স্বাভাবিকভাবে মোবাইল স্ক্রীনে আল্লাহ ও রাসূল স.এর নাম অথবা কুরআনের আয়াত লেখা জায়েয। কিন্তু ওই আয়াতগুলো স্ক্রীনে ভাসমান অবস্থায় তা নিয়ে নাপাক জায়গায় যাওয়া বৈধ নয়। এমন জায়গায় যাওয়ার আগে মোবাইল বন্ধ রাখা উচিত। অনুরূপ এগুলো মোবাইল স্ক্রীনে ভাসমান অবস্থায় পায়জামা বা প্যান্টের পকেটে রাখাও আদব পরিপন্থী।

ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়াতে আছে-
وَيُكْرَهُ أَنْ يَدْخُلَ فِي الْخَلَاءِ وَمَعَهُ خَاتَمٌ عَلَيْهِ اسْمُ اللَّهِ تَعَالَى أَوْ شَيْءٌ مِنْ الْقُرْآنِ.
অর্থাৎ আল্লাহর নাম বা কুরআনের আয়াত খচিত আংটি নিয়ে শৌচাগারে প্রবেশ করা মাকরূহ । (হিন্দিয়া ১/৫০)

মোবাইলে দীনি আলোচনা শুনা
মোবাইলে দীনি আলোচনা ও হামদ্-নাত ইত্যাদি শুনা জায়েয। তবে শর্ত হলো, শরীয়ত বিরোধী কিছু না থাকা। (কিফায়াতুল মুফতি ৯/২০৭)

মোবাইলে কুরআন-হাদীস সংরক্ষণ করা
মেমোরীতে আলাদাভাবে কুরআন-হাদীস এবং দুআয়ে মাসূরা ইত্যাদি সংরক্ষণ করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে সে প্রোগ্রাম চালু অবস্থায় বাথরুমে যাওয়া বা অবমাননাকর কোনো স্থানে যাওয়া বৈধ নয়। প্রোগ্রাম বন্ধ অবস্থায় মোবাইল নিয়ে বাথরুমে যাওয়ার অবকাশ আছে।
ফাতওয়ায়ে শামীতে আছে-
فَلَوْ نَقَشَ اسْمَهُ تَعَالَى أَوْ اسْمَ نَبِيِّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – اُسْتُحِبَّ أَنْ يَجْعَلَ الْفَصَّ فِي كُمِّهِ إذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ،
অর্থাৎ যদি কোনো জিনিসে আল্লাহ বা নবী রাসূলের নাম অঙ্কিত থাকে তাহলে উচিত হলো, তা ঢেকে বাথরুমে প্রবেশ করা।

ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল ক্রয়-বিক্রয় করার বিধান
শরয়ী মূলনীতি হলো, যে জিনিস বৈধ অবৈধ উভয় খাতে ব্যবহার করা যায় তা ব্যবহারের উদ্দেশ্য ভিন্নতায় হুকুমও ভিন্ন হয়।
এ নীতির আলোকে ভিডিও ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল যেহেতু বৈধ কাজেও ব্যবহার হয়, তাই তার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ কাজের উদ্দেশ্যে বৈধ আর অবৈধ কাজের উদ্দেশ্যে অবৈধ।
আল্লামা মুফতি রাফী উসমানী দা. বা. বলেন-

صنع هذه الآلات واصلاحها جائز لأنها آلات محضة يمكن استخدامها في الامور المباحة والمحرمة وهو يدور علي المستخدم فإن استخدمها في امر مباح فمباح، وإن استخدمها في حرام فحرام.
আবিষ্কৃত যন্ত্রপাতির ব্যাপারে বিধান হলো, এগুলো তৈরী করা এবং মেরামত করা বৈধ। কেননা এগুলো যন্ত্রমাত্র। যা জায়েয না জায়েয উভয় খাতে ব্যবহার করা যায়। এগুলো বৈধ হওয়া না হওয়া নির্ভর করে ব্যবহারকারীর উপর। যদি বৈধ কাজে ব্যবহার করা হয় তাহলে তার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ, অবৈধ কাজে ব্যবহার করলে অবৈধ। (আল মাকালাতুল ফিকহিয়্যাহ ২/১৬৫)

মোবাইলে ডাউনলোড করার বিধান
মোবাইল ক্রয়-বিক্রয়, মেরামত ও শরীয়াসম্মত প্রোগ্রাম সেট করা জায়েয। তাই কাজের বিনিময় নেয়াও বৈধ। কিন্তু মোবাইলে গান বা অশ্লীল কোনো কিছু ডাউনলোড করা ও তার বিনিময় গ্রহণ করা কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়। (আল মাকালাতুল ফিকহিয়্যাহ ২/১৬৫)

মোবাইলে কথার শুরু-শেষে সালামের বিধান
রাসূল স.-এর শিক্ষা হলো মজলিস বা স্থান থেকে বিদায় গ্রহণকারী সালাম দিয়ে বিদায় নিবে।
হাদীস শরীফে আছে-
عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِذَا دَخَلْتُمْ بَيْتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهِ، فَإِذَا خَرَجْتُمْ فَأَوْدِعُوا أَهْلَهُ بِسَلَامٍ ”
অর্থ: রাসূল স. বলেন, তোমরা ঘরে সালাম দিয়ে প্রবেশ করবে। আর যখন বের হবে সালামের সাথে বিদায় জানিয়ে বের হবে। (শুআবুল ঈমান হাদীস নং ৮৪৫৯)

তাই কলার কথা শেষে সালামের মাধ্যমে কথা শেষ করবে আর রিসিভকারী এর জবাব দিবে। তবে যদি রিসিভকারী আগে সালাম দেয় তাহলে কলার সালামের উত্তর দিবে। এটাই ইসলামের শিষ্টাচার বা আদর্শ। শেষকথা হবে সালাম, ধন্যবাদ, খোদা হাফেজ ইত্যাদি। তবে শেষ কথার পূর্বেও ধন্যবাদ, আল্লাহ হাফেজ, জাযাকুমুল্লাহ ইত্যাদি দুআ হতে পারে। এতে কোনো সমস্যা নেই।

ই‘তিকাফ অবস্থায় মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবসা
ই‘তিকাফকারী ই‘তিকাফ অবস্থায় মোবাইল দ্বারা ব্যবসায়িক চুক্তি করা বৈধ। কিন্তু উত্তম হলো, মসজিদে অবস্থানকালে এমন দুনিয়াবি কার্যক্রম থেকে বেঁচে থাকা এবং এটাকে সার্বক্ষণিক পেশা না বানানো। (বাহরুর রায়েক ২/৩০৩)

মোবাইলে ছবি তোলার বিধান
মোবাইল দ্বারা কোনো প্রাণীর ছবি তোলা এবং তা মেমোরীতে সংরক্ষণ করার বৈধতা নিয়ে বর্তমান যুগের বিজ্ঞ আলেমদের মতানৈক্য রয়েছে। অনেকে এটাকে হারাম ছবির অন্তর্ভুক্ত করে না জায়েয বলেন।
কিছু আলেম এটাকে হারাম ছবির অন্তর্ভুক্ত নয় দাবি করে জায়েয বলেন। কারণ মূলত প্রাণীর আকার-আকৃতি কোনো বস্তুর উপর স্থাপন করে ধারণ করে রাখাকে ছবি বলা হয় । অথচ ডিজিটাল ক্যামেরা বা মোবাইল দিয়ে তোলা ছবি মেমোরীর ডাটার মাঝে অসংখ্য অনু আকারে সংরক্ষিত থাকে। যা কোনো প্রাণীর আকৃতিতে ধারণকৃত নয়। তাই একে নাজায়েয ছবির অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।
আর কিছু আলেমের মতে তা ছবি হিসেবে নাজায়েয হলেও বর্তমানে দীন প্রচারের অতীব প্রয়োজনে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে জায়েয ।
সুতরাং এ নিয়ে মতোবিরোধ থাকায় সতর্কতামূলক ডিজিটাল ক্যামেরা বা মোবাইল দ্বারা অনর্থক ছবি তোলা থেকে বিরত থাকাই সর্বাধিক নিরাপদ ও উত্তম। আর ছবি প্রিন্ট করা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয। কেননা তখন তা কাগজে পূর্ণরূপ ধারণকৃত ও স্থাপিত হয়ে যায়। যা সম্পূর্ণ হারাম। (বুখারী ৫৯৫ তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৪/৯৮ আল মাকালাতুল ফিকহিয়্যাহ ২/১৬১-১৬৫ )

মোবাইলে বিবাহ
শরয়ী দৃষ্টিতে বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব কবুল হওয়া এবং সাক্ষীদ্বয় তা নিজ কানে শ্রবণ করা । নচেৎ বিবাহ সহীহ হবে না।
ফোনের মাধ্যমে আকদ না করে একজনকে ইজাব বা কবুল করার জন্য প্রতিনিধি বা উকিল বানিয়ে বিবাহ সম্পন্ন করা সবচে নিরাপদ। তবে ফোনের মাধ্যমে করতে চাইলে তার বিধান নিম্নরূপ।
বর্তমানে ফোন সেট বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে:
ক. এমন সেট যার আওয়াজ শুধু ব্যবহারকারী শুনে, উপস্থিত অন্যরা শুনতে পায় না।
খ. লাউড স্পিকারযুক্ত সেট, যার আওয়াজ ব্যবহারকারী নিজে এবং উপস্থিত সকলে শুনতে পান।
গ. এমন সেট, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী সরাসরি অপর প্রান্তের লোককে দেখতে ও শুনতে পায় এবং উপস্থিত লোকজনও দেখে ও আওয়াজ শুনতে পায়।
প্রথম ধরনের মোবাইল দ্বারা ইজাব কবুল সাক্ষীগণ শুনতে পায় না বিধায় বিবাহ সহীহ হবে না।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধরনের মোবাইলে বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো, সাক্ষীগণ সুস্পষ্টভাবে ইজাব-কবুল শুনতে হবে এবং কণ্ঠ শুনে বা ছবি দেখে তাদেরকে চিনে নিশ্চিত হতে হবে। তাহলে বিবাহ সহীহ হবে। অন্যথায় নয়। (হিন্দিয়া-১/২৬৯, বাদায়েউস সানায়ে‘-২/৫২৭, ফাতওয়ায়ে হক্কানিয়া-৪/৩১১)

মোবাইলে তালাক
শরয়ী দৃষ্টিতে প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির তালাক পতিত হয়ে যায়। সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না। তাই মোবাইলের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি নিজ স্ত্রীকে তালাক দিলে তালাক পতিত হয়ে যাবে।

ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়াতে উল্লেখ আছে-
يَقَعُ طَلَاقُ كُلِّ زَوْجٍ إذَا كَانَ بَالِغًا عَاقِلًا
অর্থাৎ প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কবান, প্রাপ্ত বয়স্ক স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিলে তা পতিত হয়ে যায়। (হিন্দিয়া ১/৩৫৩)

One thought on “নামাযে মোবাইল বেজে উঠলে করণীয়”

  1. ইমদাদুল্লাহ্ আল-গালীব says:

    আলহামদুলিল্লাহ্

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *