ইফতার মাহফিলের নামে অপসংস্কৃতি চর্চা বন্ধ হউক!-এইচ.এম. কাওছার বাঙ্গালী

Shortlink:

ইফতার শব্দের অর্থ হচ্ছে ঈমান এক্বীনের সাথে শরীয়তসম্মত পন্থায় সিয়াম সাধনার শেষে কিছু আহার পূর্বক রোজার ইতি টানা। এই দিনব্যাপী তিনটি মৌলিক কাজ থেকে বিরত থেকে সিয়াম সাধনার গুরুত্ব অপরিসীম। কাজ তিনটি হচ্ছে-
ক.পানাহার
খ.কামাচার
গ.পাপাচার
সিয়াম সাধানার শেষে নিজে খেজুর পানি ও খাদ্য সামগ্রি দিয়ে ইফতার করার অনেক ফজিলত। পাশাপাশি অন্য রোজাদারদের ইফতার করানোর সওয়াবও সীমাহীন। আসল বিষয়টি বুঝতে হবে সিয়াম সাধনার অন্যতম রহস্য হল মানুষের মানবতাবোধ ও মমত্ববোধ জাগ্রত করা। পানাহার থেকে বিরত থেকে দু:স্থ-অনাথের কস্ট অনুধাবন করে তাদের ব্যথা-বেদনা লাঘবে যত্নবান হওয়া।

এজন্য সিয়াম সাধনা একটা মানুষকে মানবিক হতে অনেক সহয়তা করে। এছাড়াও আল্লাহর এ বিধান পালনের জন্য মুমিনদের অনেক স্রষ্টার নৈকট্য লাভের অনেক বিষয় রয়েছে। সিয়াম পালন শেষে ইফতারের বিধানেও ইসলাম অনেক মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। শিখিয়েছে মানুষের মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করতে।

সুনানে তিরমিযির ৮০৭ নং হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে-
“যে ব্যক্তি কোনো রোঝাদার ব্যক্তিকে ইফতার করাবে তবে সে ব্যক্তি ঐ রোঝাদারের সম পরিমাণ সাওয়াব লাভ করবে তাতে উক্ত রোঝাদারের নিজ সওয়াবে কোনো কমতি করা হবে না”

এখানে গরীব-ধনী সকল রোঝাদারকে ইফতার করালে বিপুল সাওয়াবের বিষয় উল্লেখ আছে তবে গরীব ব্যক্তিকে ইফতার করালে দুই দিকের সাওয়াব হাসিল হবে ১#গরিব-অসহায়ের সহায়তা প্রদান ২#রমজানে ইফতার করানোর সাওয়াব।

সমস্যাটা হচ্ছে আজকাল ইফতার মাহফিল একটা ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে। হয়েছে নিয়ম রক্ষার একটা হিড়িক যেনো। সবাই করছে আমরা না করলে কেমন হয়।

যাই হোক, নিয়ম রক্ষা হোক আর নামের জন্য হোক! ধর্মীয় বিধান নিয়ে ঠাট্টা মশকরা নিতান্তই গর্হিত কাজ। বর্তমানের রাজনৈতিক -অরাজনৈতিক অনেক ইফতার মাহফিলগুলো স্পষ্টই ধর্মীয় অবমাননা। যেটাকে আমি অনেক সময় “ইফতারের নামে ফাইজলামী” বলে অভিহিত করে থাকি। কারণ, ইসলামের প্রত্যেকটা বিধানের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা আছে, যেগুলো লঙ্ঘণ করলে সেটা হয় অমার্জনীয় অপরাধ।

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে সিয়াম পালন বা রোঝা রাখা।
একমাত্র এই রোঝার ক্ষেত্রেই আল্লাহ বলেছেন রোঝার প্রতিদান আমি নিজ হাতে দিবো। অথবা আমি স্বয়ং নিজেই। সুবহানাল্লাহ।

এতবড় একটি ঘোষণার পর ইফতারের বিশাল সওয়াব রোঝাদার ও ইফতার মাহফিলকে অনেক মহিমান্বিত করে। কিন্তু আমরা কি করছি?

ইফতার মাহফিলে “বেগানা নারীকে মধ্যমনি বানিয়ে দুয়া কবুলের মূহুর্তে চোখের জেনা করে লালসা মিটাচ্ছি। অন্যদিকে একজন বিধর্মীকে ধরে এনে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি বানাচ্ছি আসলে অনুষ্ঠানের সাথে এগুলো কি কোনোভাবে যায়?
এরপর বেশিরভাগ রাজনৈতিক ইফতার মাহফিলে রোঝাহীনদের তালিকাটাই বড় হয়ে থাকে। হাসাহাসি, আড্ডাবাজি, অশ্লীলতা, রোঝাহীনদের উল্লাস, নিয়ম রক্ষার তাকিদ, নামাঝের কোনো ভালাই না থাকা। সব মিলিয়ে এগুলো রোঝার মাহাত্ম কে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শণের নামান্তর।
মজার বিষয় হচ্ছে এসকল রকমারি ইফতারে যেমন থাকেনা গরিবদের কোনো অংশগ্রহণ, তেমনি খাবার অপচয়ের একটা প্রতিযোগিতা।

এসকল কাজগুলো বস্তুবাদী বা সুবিধাবাদী রাজনৈতিক বা প্রাইভেট অনেক প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে
এই কালচারগুলো সেসকল স্থানে মহামারী আকার ধারণ করেছে।

আমাদের সচেতন হতে হবে, এখনই প্রতিবাদের ঝর উঠা দরকার। সবাইকে এই ইফতার ফাইজলামীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

আমরা চাই ইবাদাত, ইবাদাত আকারেই হোক। ইবাদাতকে ঠাট্টার বস্তুু বানানোর দু:সাহস কেউ না দেখাক।

যারা ধর্মীয় কোনো বিধানই মানতে পারছেনা তারা কেনো এমন সব গর্হিত কাজের আঞ্জাম দিয়ে নিজেকে ধার্মিক প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠবেন?

ধার্মিক সাজার দরকার নাই,
ধার্মিক হওয়ার চেষ্টা করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *